সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

রাজধানীর খিলক্ষেতে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ২৬ নারীসহ অন্তত ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং সংক্ষিপ্ত বিচারে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। রোববার (২৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি, ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিদাতারা এই ঘটনাকে ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নৈতিকতার নামে পুলিশি নিয়ন্ত্রণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলেন, ব্যক্তিগত পরিসরে আড্ডা দেওয়া, গান শোনা বা নারী-পুরুষের একসঙ্গে সামাজিক আয়োজনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের আইনে কোনো অপরাধ নয়। অথচ ‘মাদকবিরোধী অভিযানের’ নামে পুলিশ ক্যামেরা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।
অপরাধ প্রমাণের আগেই সংবাদমাধ্যমে তাদের শনাক্তযোগ্য ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে, যা সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫ ও ৪৩ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া গ্রেপ্তারদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ না দেওয়া এবং তড়িঘড়ি করে পুরুষদের ৩০ দিন ও নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়ার আইনি ভিত্তি নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি বিবৃতিতে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটক ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া; এজাহার, জব্দতালিকা ও দণ্ডাদেশের অনুলিপি সরবরাহ; ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়ানোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্ত করে উপযুক্ত প্রতিকার নিশ্চিত করা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, নূর খান লিটন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ। নাগরিকের জীবনযাপন বা বিনোদন নিয়ে ব্যক্তিগত অপছন্দকে রাষ্ট্রীয় শাস্তির ভিত্তি না করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।