সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

দেশে খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে বিষয়টি সামনে আসে।
ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশের সরকার কয়েক দিনের জন্য নাগরিকদের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ করার পরামর্শ দিচ্ছে—সংবাদপত্রে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন সম্পর্কে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ওই সাংবাদিক। তিনি জানতে চান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতি কেমন।
জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ জনগণকে, মানে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তিন দিন সাত দিনের খাবার এবং অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র স্টোর করে রাখার জন্য বলছেন। এটা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি। তার মানে পরিস্থিতি আসলে ভালো না।
“এবং ভাই যেটা প্রশ্ন করছেন যে আমাদের প্রস্তুতি কী আছে, আমি আপনাদেরকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে এ ধরনের প্রস্তুতি আমাদের সরকারের আছে, এটা নিয়ে আমাদের সরকারের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে।”
জাহেদ উর রহমান বলেন, “জনগণকে এখনো কিছু বলা হয়নি, কিন্তু শুধু এটা না, শুধু যুদ্ধ না, আমি আপনাদেরকে আগে একদিন জানিয়েছিলাম একটা সুপার এলনিনো আছে যেটা আগামী বছর সবচেয়ে পিকে যাবে, পৃথিবীতে নানান রকম দুর্যোগ হতে পারে, খাদ্য উৎপাদন কমতে পারে। সবকিছু নিয়েই সরকারের খাদ্য মজুদ বাড়ানোসহ সব রকম প্রস্তুতি আছে। এটা আমি আপনাদেরকে নিশ্চিত করছি।”
এলপিজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে
এলপিজির দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। এতে সরকার জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে কি না এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সরকার কী করছে—এমন প্রশ্নও তথ্য উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন একজন সাংবাদিক।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “এলপিজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে জনগণের উপর কতটা চাপ পড়ে এটা সরকার তো বোঝে। বুঝতেই হবে। তারপর সরকার কাজটা করল।”
তিনি বলেন, “আমি যদি বলি এই মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘদিনের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে। কি হতে পারে? এটা মূল্য কমানোর জন্য সরকারকে এখন ভর্তুকি দিতে হতে পারে। ভর্তুকিতে একটা নাগালের মধ্যে থাকতে পারে। এটা একটা অপশন আছে। আমরা খেয়াল করব জিনিসগুলো আমরা ইমপোর্ট করি। দেশের যে কোন প্রস্তুত জিনিসকে ভর্তুকি দেওয়া একই রকম না।
“দেশে চাল উৎপাদিত হলে আমি বিনা পয়সা চাল দিয়ে দিলাম। এটা একটা জিনিস আর ইমপোর্ট করার জন্য কিন্ত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। রিজার্ভের উপরে চাপ তৈরি হয়।”
দাম না বাড়ালে সরকারের পক্ষে কত ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব—সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “বর্তমান অর্থবছরে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার একটা পরিকল্পনা বাজেটে ছিল। কিন্তু আমি একটা ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলাম আড়াই মাসের মাথায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।”
সর্বশেষ এলএনজি প্রতি ইউনিট ৩০ ডলার করে কেনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত, মানে অন্তর্বর্তী সরকার পর্যন্ত ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ ডলার পর্যন্ত ছিল এলএমজি ইউনিট। এখন আমাদের দ্বিগুণের দামে বেশি কিনতে হচ্ছে।”
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে একটি ‘বৈশ্বিক সংকট’ মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, “ভর্তুকি দেয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে। এটা একটু আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
“সরকার অকল্পনীয় পরিমাণ ভর্তুকি যদি দিতে থাকে সরকারকে আসলে ঋণ বাড়াতে হবে। ঋণ বাড়াতে হবে। ঋণ যদি বাড়ায় সরকার আইদার ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে ঋণ নেবে অথবা সরকার নতুন মানি বাজারে দেবে। ওখান থেকে নেবে। দুটোর প্রত্যেকটারই আল্টিমেট ইমপ্যাক্ট কিন্তু ইনফ্লেশন বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এবং দীর্ঘমেয়াদে। সুতরাং ওইটা জনগণকে ক্ষতি করবে।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কোন অর্থনীতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের ভবিষ্যৎ কিন্তু একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। জ্বালানির বাজার কি পরিস্থিতি হবে, সেটা আগে এভাবে ছিল না।
বিগত সরকারের সময় কী ছিল অর্থনীতি, এখন কী, সেসব বিবেচনা করতে হবে।
“আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক চাপ সব বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”
‘পুলিশকে একটু সময় দিতে হবে’
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন চলার সময় পুলিশের এক কর্মকর্তা এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে পুলিশ এসব ঘটনায় বল প্রয়োগ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলের চেয়ে এখন ফার বেটার করেছে। তারপরও দুয়েকটা জায়গায় ভুল ভ্রান্তি হতে পারে।
“দীর্ঘদিন যাবত কেউ একটা প্রসেসে কাজ করে। সেই প্রসেসে কাজ করতে গিয়ে কোথাও হয় একই চর্চা চলে আসতে পারে। এখানে একটু সময় দিতে হবে।”
সেনাবাহিনীর সঙ্গে পুলিশের পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী বন্দুক তাক করে শত্রুর দিকে। ও চায় একটা গুলিতে যেন একটা শত্রু মারা যায়। আর পুলিশ যখন এনগেইজ করে পিপলের সাথে সে তার বন্দুক তাক করে তার নিজের জনগণের দিকে। আর সেটা মাথায় রাখতে হয়।
“পুলিশকে তো প্রাণঘাতী অস্ত্র দেওয়া আছে। সে গুলিটা কোথায় করবে। কোথায় করলে অল্প ক্ষতিতে তাকে নিবৃত্ত করা যাবে। এই চর্চাগুলো এই সরকারের অধীনে পুলিশ করবে এটা নিশ্চিত দেওয়া যায়।”