যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন : সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জয়, কংগ্রেসে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়ে সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। বিশেষ করে জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ভার্জিনিয়ার সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় দলটির জন্য বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নিশ্চিত হতে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও দ্য গার্ডিয়ানের লাইভ আপডেট অনুযায়ী, প্রাথমিক ভোট গণনায় ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনে জয় পেলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে।

সিনেটের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় চমক এসেছে নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করে আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন। গত এক দশকে এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটি থেকে একজন ডেমোক্র্যাট সিনেট আসনে জয় পেলেন।

জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। একইভাবে নিউ হ্যাম্পশায়ারে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাস এবং ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার নিজেদের আসন ধরে রেখেছেন। তবে ফ্লোরিডার বিশেষ সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি মুডি।

প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা বেশ কিছু আসনে জয় পেয়েছে। ফ্লোরিডার ২০তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে টানা ১২তম মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেবি ওয়াসারম্যান শুলৎজ। নর্থ ক্যারোলাইনার পশ্চিমাঞ্চলেও রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ডেমোক্র্যাটদের হাতে এসেছে।

তবে টেক্সাস, মিশিগান, ওহাইও, আইওয়া ও উইসকনসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি আসনে ভোট গণনা এখনো চলছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে এসব আসনের ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। ৩৯ শতাংশ ভোটারের কাছে অর্থনীতি ছিল প্রধান ইস্যু। এরপর ৩২ শতাংশ ভোটার গণতন্ত্রের অবস্থা, ১৪ শতাংশ অভিবাসননীতি এবং ৮ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় কংগ্রেস যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না।

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের নীতিমালার ওপর ভোটারদের মূল্যায়ন হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আইন পাস ও প্রশাসনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পেলে তারা অভিবাসন, বাজেট এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে তদন্ত ও শুনানির সুযোগ পাবে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা এবং ক্যালিফোর্নিয়া, আলাস্কা ও মেইনের মতো রাজ্যগুলোর দীর্ঘ ভোট গণনা পদ্ধতির কারণে চূড়ান্ত ফল জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। প্রাথমিক ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি দেখা গেলেও কংগ্রেসের চাবিকাঠি শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, তা জানতে চোখ রাখতে হবে বাকি আসনগুলোর দিকে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh