সব
মামুন পারভেজ,
বায়ুদূষণে দেশের শীর্ষ ৫ শহরের মধ্যে সিলেট। এতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন নগরবাসী। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের সূচকের তথ্যমতে সিলেটের বাতাস অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। একিউআই স্কোরে বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের বায়ুদূষণে শীর্ষ পাঁচ শহরে রয়েছে সিলেটের অবস্থান। ইপিএর প্রতিবদেনে একে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বায়ু খুবই অস্বাস্থ্যকর। নভেম্বর মাসজুড়ে ওই শহরগুলোর অধিকাংশের বায়ুর মান মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল।
রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা, খোঁড়াখুঁড়ি, গাড়ির কালো ধোঁয়া, ইটভাটার ধোঁয়া এসব থেকে বায়ু মারাত্মক দূষিত হচ্ছে। বায়ুদূষণের ফলে বিরক্তির শেষ নেই নগরবাসীর।
প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি একসময়ের নির্মল বাতাসের শহর সিলেট নগরীর বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন সিলেটের পরিবেশবাদীরা। অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজ ও সবুজায়ন কমার কারণে এই মাত্রাতিরিক্ত দূষণ হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বে অবহেলা কারণে বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।
ময়লা অন্যান্য আবর্জনা দ্রুত অপসারণের জন্য পৃথক খাতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হলেও সমস্যা রয়ে যাচ্ছে। ড্রেনের ময়লা আবর্জনা রাস্তার দু’পাশে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়। ফলে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলা-বালি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে দূষণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। দূষণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানী, এলার্জি, চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধুলা দূষণে জনদূর্ভোগের পাশাপাশি একদিকে যেমন স্বাস্থ্যগত সমস্যা হচ্ছে তেমনি আর্থিক ও পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বায়ুদূষণ জনিত রোগব্যধি থেকে বাঁচতে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেজ্ঞ চিকিৎসক।
গত এক সপ্তাহ পর্যলোচনা করে দেখা বায়ুর বৈশ্বিক মানদণ্ড একিউআই সূচকে সিলেটের বাতাসে দূষণের স্কোর ১৪০ থেকে ১৫২ ছিলো। একিউআই সূচকে ৫০ এর নিচে স্কোর থাকার অর্থ হলো বাতাসের মান ভালো। একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে সাধারণ নগরবাসী বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। একিউআই স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে নগরবাসীর প্রত্যেকের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
বায়ুর বৈশ্বিক মানদণ্ডকে অনুসরণ করে পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে। বায়ুর মান মাত্রার সূচক ১০০-এর ওপরে উঠলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। বায়ুতে ক্ষুদ্র বস্তুকণা ও চার ধরণের গ্যাসীয় পদার্থ পরিমাপ করে এ সূচক তৈরি করা হয়।
এব্যপারে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র বলেন, শীতের সময় সাধারণত বাতাসে দূষণের জন্য দায়ী ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। একই সঙ্গে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত বেড়ে যাওয়ায় বাতাস স্বাভাবিকভাবেই দূষিত হয়ে পড়ে। এছাড়া, কলকারখানা যানবাহনের কালো ধোয় তো আছেই। যার কারণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানী, এলার্জি, চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
বছরজুড়ে চলমান সিসিকের উন্নয়ন কাজ সিলেটের বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বাতাসে স্বাভাবিকভাবেই ধুলোর পরিমান বেড়ে যায়। তার উপর বছর জুড়ে সিসিকের চলমান উন্নয়ন কাজ। একটা কাজ শেষ হচ্ছে তো অন্যটা শুরু। এ কারণে সিলেটের বায়ু অনেকটা দূষিত হচ্ছে। এছাড়া, প্রতিযোগিতা করে বহুতল ভবন নিমার্ণ হচ্ছে। অন্যদিকে সিলেটের সবুজায়ন কমছে। সিলেটের নির্মল বায়ু দিনে দিনে রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে।
এব্যপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনে পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা হানিফুর রহমান জানান, ড্রেনের ময়লা সাথে সাথে ট্রাকে করে নিলে নগরী নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই দুই একদিন পরে নেয়া হয়। এছাড়া, রাস্তা খুঁড়াখুঁড়ির মাটি কাজ শেষে গর্ত ভরাট করতে আবার প্রয়োজন হয় তাই আর সরানো হয় না।