মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ১৮৯ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ মাছের খাবার বিতরণ !

আব্দুর রব, বড়লেখা,

  • প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২২, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ২৭ জন সিআইজি মৎস্য খামারির মাঝে মেয়াদোত্তীর্ণ মাছের খাবার বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। ফিসারিতে মাছের খাবার দিতে গিয়ে খামারিরা বস্তার গায়ে দেখেন বিতরণের কয়েক দিন আগেই মাছের খাবার ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এতে খামারিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী মৎস্য খামারিসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বড়লেখা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ২৭ জন সিআইজি মৎস্য খামারির মাঝে বিনামূল্যে মৎস্য খাবার বিতরণ করা হয়। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর সভাপতিত্বে ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন প্রমুখ।
বিতরণের দিন ২৭ জন মৎস্য খামারির প্রত্যেককে ৭ বস্তা করে ১৮৯ বস্তা কার্প ও তেলাপিয়া মাছের খাবার দেয়া হয়। প্রত্যেক খামারি ১৪০ কেজি করে মাছের খাবার পেয়েছেন। তবে অধিকাংশ বস্তার মেয়াদ বিতরণের কয়েকদিন আগেই শেষ হয়েছে।
নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের উদ্যোক্তা ও মৎস্য খামারি সালেহ আহমদ অভিযোগ করেন, ১৬ আগস্ট তাকে ৭ বস্তা মাছের খাবার দেয়া হয়। এরমধ্যে ৫ বস্তার মেয়াদ বিতরণের দুইদিন আগে অর্থাৎ ১৪ আগস্টেই শেষ হয়ে গেছে। ১টির মেয়াদ শেষের তারিখ ছিল ১৬ আগস্ট। অপরটির মেয়াদ ২২ আগস্ট শেষ হবে। ফিসারিতে মাছের খাবার দিতে গিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণের বিষয়টি তার চোখে পড়ে। এগুলো মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহারের অনুপযোগী। অন্তত ১ মাস মেয়াদ থাকতেই মাছকে খাবার দিতে হয়। মৎস্য বিভাগের গাফিলতিতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যেত। বিষয়টি মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। ফেরত নিবেন বলে জানিয়েছেন।
দাসেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের মৎস্য খামারি আবুল খায়ের বলেন, তাকে দেয়া ৭ বস্তা মাছের খাবারের মেয়াদ ৭-৮ আগস্টেই শেষ হয়েছে। খাবারগুলো মাছকে দেয়ার অনুপযোগী। মেয়াদ না দেখে খাবার দিলে মাছের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেত। এটাই প্রমাণ করে খামারিদের প্রতি মৎস্য বিভাগের চরম অবেহলা ও এ বিভাগটি কতটা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত।
একই অভিযোগ করেন উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির সিআইজি মৎস্য খামারি ফয়ছল আহমদ। তিনি বলেন, ১৬ আগস্ট মাছের খাবার পেয়েছি। এদিনই মেয়াদ চলে গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারগুলো মৎস্য বিভাগের দেয়া ঠিক হয়নি।
মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিতরণের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, ‘এগুলো বন্যার সময় কিনেছিলাম। মেয়াদ যে চলে গেছে খেয়াল করিনি। মেয়াদ না দেখে বিতরণ করাটা ঠিক হয়নি। মৎস্য চাষীদের সাথে যোগাযোগ করেছি। রবি-সোমবারে বস্তাগুলো ফেরত এনে নতুন খাবার দেবেন।’
ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী জানান, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। যাদের দেয়া হয়েছে তাদের থেকে ফেরত এনে নতুনভাবে দেয়া হবে।’
মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মৎস্য খাবার বিতরণের কোন সুযোগ নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার মাছকে দিলে খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যিনি উপকরণ বিতরণ করবেন এটা তার নৈতিক দায়িত্ব। সঠিকভাবে দেখে বিতরণ করা উচিত ছিল। এগুলো ফেরত নিয়ে খামারিদের নতুনভাবে দেয়া হবে।’

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh