সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

১ সেপ্টেম্বর। ১৯৭১ সালের এইদিনে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর সিলেটের ভাটি অঞ্চলের অন্যতম নৌবন্দর রানীগঞ্জ বাজারে সংঘটিত হয় ইতিহাসের এক নিষ্ঠূরতম গণহত্যা। পাকহানাদার বাহিনী গুলি করে হত্যা করে শতাধিক নিরপরাধ মানুষ এবং জ্বালিয়ে দেয় বাজারের অনেক দোকানপাট। সেদিনের হত্যাকান্ডের শিকার হন আমার বাবা রানীগঞ্জ বাজার কমিটির তৎকালীন সভাপতি শহীদ আকলু মিয়া, বড় খালু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ফুটবলার আব্দুল মজিদ ((দূর্ভাগ্যবশতঃ যার লাশ পাওয়া যায়নি), আনোয়ার হোসেন ও আকিল হোসেন (সহোদর), আলতা মিয়া, মিছির আলী, আব্দাল মিয়া, তছর উদ্দিন (ড্রাইভার চাচা), সোনাহর আলী, ও তাজু মিয়া সহ আরো অনেকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন পঙ্গুত্ব বরণ করে পরলোক গমন করেন আকল মিয়া (ছোট চাচা) ও মজমিল মিয়া । এছাড়াও আহত হন বিনোদ রায়, ক্বারী এখলাছুর রহমান, তফজ্জুল হোসেন ও ওয়াহিদ আলী প্রমূখ (তাদের কেউই এখন আর বেঁচে নেই)।
এ উপলক্ষে রানীগঞ্জ এলাকায় নানা কর্মসূচি পালন করা হয় । সকালে রানীগঞ্জ বাজার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বাদ জোহর মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া মাহফিল এবং শহীদ আকলু মিয়ার বাড়িতে গরীব- মিসকিনদেরকে আপ্যায়ণ করানো হয়। বিকেলে রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে শহীদ স্মরণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে ।
এদিকে রানীগঞ্জ গণহত্যায় নিহত সকল শহীদ ও যুদ্ধাহত গাজীদের স্মরণে শহীদ-গাজী ফাউন্ডেশন‘র উদ্যোগে ১২ই সেপ্টেম্বর, সোমবার পূর্বলন্ডনের ব্রিকলেনে “আমরা তোমাদের ভুলিনি“ শীর্ষক এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৩১ অগাস্ট জগন্নাথপুর উপজেলাধীন শ্রীরামসী গ্রামেও পাক হানাদার বাহিনী এক নৃশংশ হত্যাকান্ড চালায়।
আমরা গণহত্যায় নিহত সকল শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।