বাসে ই-টিকিট : ভাড়ায় স্বস্তি, হুড়োহুড়ি আগের মতোই

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২২, ৬:০৬ অপরাহ্ণ

রাজধানীতে কয়েকটি রুটের বাসে পরীক্ষামূলকভাবে ই-টিকিটিং পদ্ধতি চালু হওয়ার পর ভাড়া নিয়ে বচসা দেখা না গেলেও টিকিট সংগ্রহ ও বাসে ওঠানামায় হুড়োহুড়ি রয়ে গেছে আগের মতোই। যাত্রীদের ভাষ্য, বাস না আসা পর্যন্ত টিকিট যেমন দেওয়া হচ্ছে না, তেমনই টিকিট বিক্রির নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় তা সংগ্রহ করতে হচ্ছে সড়কের ওপরই। তাতে বাসে উঠতে হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটছে। যাত্রী তোলা হচ্ছে নির্দিষ্ট স্টপজের বাইরেও। তবে আগের মতো ভাড়া নিয়ে বচসা না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে যাত্রী ও শ্রমিক দুই পক্ষই।

মিরপুর ২ ও ১০ নম্বর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের বেঁধে দেওয়া ভাড়া অনুযায়ী ই-টিকিট দেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের। ভাড়া নিয়ে কোনো সমস্যাও চোখে পড়েনি। মিরপুর ২ থেকে প্রজাপতি পরিবহনে উত্তরা যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কামরুজ্জামান। ই-টিকিট পদ্ধতি চালু হওয়ার পর কী পরিবর্তন দেখছেনÑ জানতে চাইলে বলেন, যাত্রীদের সুবিধা হয়েছে। আগে ১৬ টাকার ভাড়া ২০ টাকা, ৩৫ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা দিতে হতো। এখন যা ভাড়া তা দিয়েই টিকিট নিতে হচ্ছে। তবে টিকিট নিতে গিয়ে রাস্তার ওপরই হইহুল্লোড় করতে হচ্ছে।

মিরপুর ১০ থেকে রাজধানী পরিবহনে বাড্ডা যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী শফিকুল্লাহ। তিনি বললেন, এই ব্যবস্থা হওয়ার পর ভালো হয়েছে। আগে ভাড়া নিয়ে অনেক সমস্যা ছিল। একেক দিন একেক ভাড়া চাইত। এখন একটি নির্দিষ্ট ভাড়া নিচ্ছে। গাড়ির ভেতর ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বও কমেছে। রাস্তা থেকে লোক কম উঠছে। ভাড়া নিয়ে আর তেমন ঝগড়া-বিবাদ হচ্ছে না বলে জানালেন পরিবহন কর্মীরাও। রাজধানী পরিবহনের চালক নুরুজ্জামান বলেন, ভাড়া নিয়া আগের ক্যাচাল এখন আর নাই। আরামে গাড়ি চালানো যায়।

আর অছিম পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা সাগর মিয়ার কথায়, এখন জেনুইন ভাড়ায় আসছে, ওয়েবিলও নাই। যাত্রীরা নিজে মেশিনে দেখে ভাড়া দেয়, তাই ভেজাল হয় না।

তবে টিকিট বেচার কোনো নির্দিষ্ট স্থান কোথাও চোখে পড়েনি। টিকিট বিক্রি হচ্ছিল সড়কের ওপর, যা নিয়ে অসন্তোষ জানালেন যাত্রী ও টিকিট বিক্রেতা উভয়ই। আবার লাইন ধরে টিকিট বিক্রি না করে কেবল বাস এলে টিকিট দেওয়া হচ্ছিল। ফলে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি হচ্ছিল বেশ।

মিরপুর-২ স্টপেজ থেকে রাজধানী পরিবহনের বাসের টিকিট পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন এক যাত্রী। তিনি বলেন, কাউন্টার নির্দিষ্ট করতে হবে। এভাবে এলোমেলো করে টিকিট দিলে হবে না। কোন বাসের টিকিট কে দিচ্ছে, কোন জায়গা থেকে দিচ্ছে, তা বাসের গায়ে বা জানালায় লিখে দিতে হবে। হুট করে গাড়ি আসে, তখন টিকিট দেয়। সবাই হুড়োহুড়ি করে, কখন কার গায়ে গাড়ি ওঠে, বলা যায় না।

মিরপুর-১০ স্টপেজে উত্তরা যেতে পরিস্থান পরিবহনের অপেক্ষায় আরেকজন অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম টিকিট দিচ্ছিল না। বলল, বাস এলে দেবে। এখন বাস আসার পর দিচ্ছে, কিন্তু অনেক ভিড় আর ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে। টিকিট বিক্রেতাদের কেউ কেউ যাত্রী ডাকছিলেন হ্যান্ড মাইকে। যাত্রী বেড়ে গেলে বা অনেক বাস একসঙ্গে এলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছিল।

মিরপুর-২ স্টপেজে অছিম পরিবহনের বাসের টিকিট বিক্রেতা বলেন, বাস কোনটা কখন আসবে, আমরা আগে বলতে পারি না। তাই বাস না আসার আগে টিকিট দিই না। কোম্পানিগুলোকে টিকিট বিক্রির জন্য আলাদা আলাদা জায়গা করে দিলে যাত্রী ও আমাদের সুবিধা হতো।

পরিস্থান বাসের টিকিট চেকার বলেন, আমাদের তো নির্দিষ্ট জায়গা নাই দাঁড়ানোর। রাস্তার ওপর দাঁড়ানো লাগে। এখান থেকেই যাত্রীদের টিকিট দিতে হয়। কখন কোন বাস ওপরে ওঠে যায়, ঠিক নাই। নির্দিষ্ট জায়গা বা লাইন করে দিলে সবার সুবিধা হবে।

তবে এ ব্যবস্থা নিয়ে আশাবাদী ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তার ভাষায়, সমস্যা কিছু থাকলেও তার সমাধান সম্ভব। সেজন্য বাস মালিকদের সঙ্গে বসবেন তারা। কোন কোন জায়গায় সমস্যা থেকে যাচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে এই ব্যবস্থা সব জায়গায় চালু করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh