তীব্র তাপদাহে জনজীবনে হাঁসফাঁস

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৩, ৭:২২ অপরাহ্ণ

রাজধানীসহ সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপদাহ। এরই মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ ডিগ্রির ঘরে। খোদ রাজধানীর তাপমাত্রাও এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা। তাপদাহ থেকে বাঁচতে তাই বৃষ্টির আকুতি সাধারণ মানুষের।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গরমে নাজেহাল অবস্থা দেখা গেছে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও কর্মজীবীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। তারপরও জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘাম ঝরিয়ে ছুটতে হচ্ছে তাদের।

পল্টন এলাকার এক রিকশাচালক বলেন, গরম কেমন পড়ছে, তা তো দেখতেই পাচ্ছেন। এটা তো ধনী-গরিবের জন্য আলাদা হয় না। তারপরও যাদের গাড়ি আছে, তারা এসির মধ্যে শান্তিতে থাকতে পারে, বাড়ি ও অফিসে ঠান্ডা বাতাসের মধ্যে বসে থাকতে পারে। আর আমাদের মতো গরিবের এই গরমের মধ্যেই কষ্ট করে ভাত জোগাতে হয়।

আরেকজন বলেন, গরমে শুধু যে কষ্ট হচ্ছে তা নয়, আয়-রোজগারও কমেছে। একদিকে গরমের কারণে বেশিক্ষণ রিকশা যেমন চালানো যায় না, আরেকদিকে যাত্রীও তেমন পাওয়া যায় না। মানুষ গরম ও রোজার কারণে দিনে বাসা থেকে তেমন বের হয় না।

প্রেসক্লাব এলাকায় কথা হলে পথচারী রুহুল বলেন, গরমে তো আর অফিস বন্ধ নেই। তাই এই রোদ-গরমের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে ধাক্কাধাক্কি করে আমাদের যেতে হয়। এই আমাদের জীবন-যুদ্ধ।

তাপদাহে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা তখন রাজধানী ঢাকাসহ বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তবে রাজধানীসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলাসহ রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগ সমূহের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এই অবস্থায় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও কক্সবাজারের টেকনাফে ১৭ মিলিমিটার এবং বান্দরবানে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাঙামাটি ও বান্দরবানে, ২৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh