ওয়েষ্ট মিডল্যান্ডের ডাডলি শহরে এসাইলাম বিরোধী বিক্ষোভ

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন,

  • প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৫, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

গ্রেট ব্রিটেনে প্রতিদিনই বাড়ছে আশ্রয় প্রার্থির সংখ্যা। গণহারে আশ্রয় আবেদন ব্রিটেনের সাধারন মানুষ মেনে নিতে পারছেনা। ব্রেকসিট পরবর্তিতে দেশটিতে অর্থনৈতিক মন্দা অন্যদিকে প্রতিনিণিয়ত অভিবাসী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে সাধারন মানুষ অতিষ্ঠ । এনিয়ে ইদানিং মাইগ্রেন্ট বিরোধী সংগঠন সমূহসহ সাধারন মানুষ এনিয়ে সোচ্চার, ইমিগ্রেশন আইন কঠোর করেও আশ্রয় আবেদন কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছেনা। মানবতার দেশ ব্রিটেন সব সময়ই উদার। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যারা ব্রিটেনে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন অধিকাংশই ভূয়া। উদ্দেশ্য ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাস করা।

বিশেষ করে সাউথ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশ গুলো থেকে আসা আশ্রয় প্রার্থিরা মিথ্যার আশ্রয় নেয় বেশী। একজন ব্রিটিশ পাকিস্তানী ইমিগ্রেশন আইনজীবির মতে ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের আগষ্ট পর্যন্ত পাকিস্তান শ্রীলংকা ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আগত ৫০ হাজার মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। তার মতে এর ৯৫%ই ভূয়া তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া প্রতিদিনই অবৈধ অনুপ্রবেশ কারীর সংখ্যা বাড়ছে। এরাও অবৈধ ভাবে ব্রিটেনে প্রবেশ করে আশ্রয় প্রার্থনা করছে।

গতকাল ১৭ আগষ্ট ২০২৫ দুপুরে ওয়েষ্ট মিডলেন্ডের ডাডলি শহরের সিটি সেন্টার ও এসাইলাম আবেদনকারীদের রাখা হয়েছে এমন একটি হোটেলের সামনে বিক্ষোভ করেছে শত শত অভিবাসন বিরোধী। এসময় প্যালিস্টিনের পতাকা হাতে পাল্টা মিছিল করেছে ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ। ডাডলি কাউন্সিলের কনজারভেটিভ নেতা প্যাট্রিক হার্লে এই এসাইলাম বিরোধী বিক্ষোভের আয়োজন করেন তিনি সরকারী অর্থ ব্যায়ে আশ্রয় আবেদেনের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই করছেন। তিনি বলেন আমি শুধু একা নই আমার মতো এই এলাকার কেউই আশ্রয় প্রার্থী চায়না তা আজ প্রমাণিত হলো। হোম অফিস পূর্বে বলেছিল যে তারা যেসব সম্প্রদায়ের উদ্বেগ রয়েছে তাদের সাথে কাজ করছে। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে যে “কোনও উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়াই” বিক্ষোভ এবং পাল্টা বিক্ষোভ হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিবিসির একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন যে প্রায় ২০০ জন অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভকারী এই বিক্ষোভে অংশ নেন, তাদের অনেকেই ইউনিয়নের পতাকা বহন করেন। অন্যদিকে এবং প্রায় ২০/২৫ জন পাল্টা বিক্ষোভকারী, তাদের কেউ কেউ ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।

ডাডলি কাউন্সিলের কাউন্সিল লিডার বলেন জনগণের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে তিনি তাদের অধিকার রক্ষা করেছেন। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ জানিয়েছে এই বিক্ষোভে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। একজন মুখপাত্র বলেন, সাময়িক ভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে এবং তিনি ধৈর্য ধরার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

“আমাদের অগ্রাধিকার সর্বদা জনগণকে নিরাপদ রাখা এবং পুলিশিং, জনশৃঙ্খলা এবং বিক্ষোভ সম্পর্কিত প্রতিটি সিদ্ধান্তে আমাদের অবশ্যই মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার এবং অপরাধ মোকাবেলার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে যাতে আমরা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি,”। তিনি বলেন, মানুষ “একটি কাউন্সিলকে কঠোর অবস্থান নিতে দেখছে”, তিনি আরও বলেন: “তারা দেখছে যে ডাডলি কাউন্সিলের অনেক হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের সাথে অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মতো একই সমস্যা নেই – আমাদের কর্তৃপক্ষের মধ্যে কেবল একজন আছে।” “শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গত প্রতিবাদের অধিকার যেকোনো গণতন্ত্রের একটি মৌলিক উপাদান, এবং আমরা এটি সমুন্নত রাখতে এবং সহজতর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগে, হার্লে দাবি করেছিলেন যে তার মন্তব্য “সম্ভবত পরিস্থিতি শান্ত করেছে”। হার্লে বলেন: “এটি একটি খুবই আবেগপ্রবণ বিষয়, তাই আমি বুঝতে পারছি কেন মানুষ প্রতিবাদ করতে চায়। “আমরা যা দেখতে চাই না তা হল মানুষ আইন ভঙ্গ করছে, সম্পত্তির ক্ষতি করছে, হুমকি দিচ্ছে এবং আমাদের বরোকে আসলে ভালোভাবে উপস্থাপন করছে না। “আমরা যা চাই তা হল একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং যদি মানুষ খুব শান্তিপূর্ণ এবং আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ করতে পারে, তাহলে আমি তাদের অনুভূতি সবার সামনে তুলে ধরার জন্য লোকেদের স্বাগত জানাই।”

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh