ছোট ভাইয়ের প্রার্থনা—‘এমন পরিণতি যেন আর কারও না হয়’

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৫, ৯:১০ পূর্বাহ্ণ

সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের (৭১) লাশ শনাক্ত করার পর ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার বলেন, “এমন পরিণতি যেন আর কারও না হয়।” শুক্রবার রাতে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো মনোমালিন্য ছিল না। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে কিছু ছিল কি না জানা নেই। তিনি বলেন, “এটি আত্মহত্যা, না খুন, না পরিকল্পিত কোনো ঘটনা, আমরা জানি না। আমি শুধু এই টুকুই বলব, এমন পরিণতি যেন আর কারও না হয়।”

৭১ বছর বয়সী বিভুরঞ্জন সরকার দৈনিক আজকের পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে তিনি রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে বের হন। এরপর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে স্থানীয়রা একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। নৌ পুলিশ বিকেল পৌনে চারটার দিকে লাশ উদ্ধার করে। পরে ছবি দেখে বিভুরঞ্জনের পরিবার শনাক্ত করতে মুন্সিগঞ্জে যায়। রাত পৌনে নয়টায় মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ভাই চিররঞ্জন সরকার ও ছেলে ঋত সরকার লাশ শনাক্ত করেন।

লাশ দেখে ঋত সরকার বলেন, “বাবার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল, কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি আসলে কী কারণে হচ্ছে, আমরা বুঝতে চাই। যাঁরা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাঁদের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হতে চাই।” তিনি আরও জানান, তার বাবা সব সময় শান্ত ছিলেন। হতাশাগ্রস্ত ছিলেন কি না নিশ্চিত নন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও খেয়ে, ইনসুলিন নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বের হয়েছিলেন। যাওয়ার আগে মাকে বলে গিয়েছিলেন বিকেল পাঁচটার মধ্যে ফিরবেন। এরপর থেকে ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবার রমনা থানায় জিডি করে।

চিররঞ্জন সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার রাতটি পরিবারের জন্য চরম উদ্বেগের ছিল। শুক্রবারও নানা চেষ্টা করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। তিনি প্রত্যাশা করেন, পুলিশের তদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে।

বিভুরঞ্জন সরকারের নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশের পর শুক্রবার বিকেল ৫টা ২৩ মিনিটে অনলাইন গণমাধ্যমে তার পাঠানো একটি ‘খোলা চিঠি’ প্রকাশিত হয়। চিঠিতে তিনি সাংবাদিকতা জীবন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও গণমাধ্যম পরিস্থিতি, নিজের অসুস্থতা, ছেলেমেয়ের শিক্ষাজীবন ও চাকরির ব্যর্থতা এবং আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরেন।

তার স্ত্রীর ভাই দীপঙ্কর সাহা বলেন, পরিবার চিঠিটি আগে দেখেনি। দেখলে তাকে বাসা থেকে বের হতে দিত না।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...