জুবায়েদ হত্যা ছাত্রী ও প্রেমিকের নির্দেশে, পরিকল্পনা একমাস আগের

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ২:৪৪ অপরাহ্ণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এক মাস আগে। হত্যার ছক আঁটেন জুবায়েদের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী এবং তার প্রেমিক। মঙ্গলবার বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যার দিন রোববার ছাত্রী ও তার প্রেমিকের সঙ্গে আরও দুইজন বন্ধু ছিলেন। তারা নতুন দুটি সুইচ গিয়ার ছুরি কিনে আনেন। এরপর প্রেমিক এলোপাতাড়ি ছুরি চালায় এবং হত্যার নির্দেশ দেয় ছাত্রী নিজেই।

জুবায়েদ দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় তার ছাত্রীকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ছাত্রী বাসার নিচে ছুরিকাঘাতের শিকার হন জুবায়েদ। আহত অবস্থাতেই তিনতলা পর্যন্ত ওঠার পর মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, ছাত্রী তার প্রেমিককে না করে দেয় এবং জুবায়েদকে পছন্দ করতেন। পরে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তারা কীভাবে জুবায়েদকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, সেটিও পরিকল্পনা করছিল।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মেয়েটিসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। কলেজছাত্র পুরান ঢাকার শেখ বোরহান উদ্দীন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম বর্ষে এবং ছাত্রী ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে।

জুবায়েদ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ সংসদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করতেন।

রোববার হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহপাঠী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। পুলিশ ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রায় ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং রাত ১১টার দিকে ছাত্রীকে হেফাজতে নেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা রাত পৌনে ১২টার দিকে বংশাল থানার দিকে মিছিল ও রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।

ছাত্রীর প্রেমিক রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর সোমবার সকালে তার মা তাকে বংশাল থানায় হস্তান্তর করেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh