সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

ঢাকায় ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এ ঘটনায় আবুল কালাম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত আবুল কালাম ৩৫ বছর বয়সী এবং তিনি স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান রেখে গেছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকায় বসবাসরত ও ঢাকার মতিঝিলে একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আবুল কালামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আবুল কালাম জলিল চোকদার ও হনুফা বেগম দম্পতির ছেলে। চার ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তিনি ছোটতম। কিশোর বয়সে বাবা-মা হারানোর পর ভাই-বোনদের সংসারে বেড়ে উঠেছেন। পরিবারের মানুষজন বলেন, ‘তিনি কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন এবং সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর জন্য বিদেশেও গিয়েছিলেন।’
সংবাদে বলা হয়েছে, এক মাস আগে গ্রামে এসে গ্রামের বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন আবুল কালাম; তার সেই হাস্যোজ্জ্বল স্মৃতি এখন অমীমাংসিত বেদনায় পরিণত হয়েছে। একজন গ্রামবাসী রিহিনুজ্জামান গণমাধ্যম কে বলেছেন, ‘এক মাস আগে আবুল যখন গ্রামে এসেছিল, তখন আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমার সেই হাস্যোজ্জ্বল বন্ধুটি আজ নেই, ভাবতে পারছি না।’
গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে, আবুল কালাম ২০১২ সালে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় যান এবং ২০১৮ সালে গ্রামাঞ্জলি আইরিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তার দাম্পত্য জীবনে এক ছেলেমেয়ের জনক তিনি। নিহতের স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে মতিঝিলে এসে কাজের জন্য বের হওয়ার সময় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেল পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে তার ওপর চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। পরে সংবাদ মাধ্যমে জানার পর পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পান।
ঈশ্বরকাঠি গ্রামে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা গিয়ে দেখেন, মৃতের বাড়িতে আনন্দ-শোক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই গ্রামের লোকজন ও আত্মীয়স্বজন সমবেত হয়েছেন। নিহতের বড় বোন সেলিনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে গণমাধ্যম কে বলেন, ‘আমার ভাইটি সারা জীবন কষ্ট করেছে। কিশোর বয়সে বাবা–মাকে হারিয়েছে। আজ দুই শিশুসন্তান রেখে সে নিজেও না ফেরার দেশে চলে গেছে। এখন এই শিশু দুটির কী অবস্থা হবে? তার বিধবা স্ত্রী কার কাছে গিয়ে দাঁড়াবে?’
নড়িয়া উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ঈশ্বরকাঠি গ্রামে নিহতের বড় ভাই খোকন চোকদার গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ওটাই যে আমার ভাইয়ের শেষযাত্রা হবে, আমি বুঝতে পারিনি। এখন সে ফিরবে প্রাণহীন দেহ নিয়ে। আমরা স্বজনেরা অপেক্ষায় আছি তার প্রাণহীন দেহটার জন্য। আমাদের পরিবারের সঙ্গে কেন এমন হলো। আমার ভাইটি তো কারও কোনো ক্ষতি করেনি। তাহলে কেন অকালে তাকে প্রাণ হারাতে হলো। তার স্ত্রী–সন্তানকেইবা এখন কে দেখবে?’ (উক্ত উদ্ধৃতিগুলো গণমাধ্যম বসবে. মাধ্যমে দেওয়া হয়)।
ঘটনাটি মেট্রোরেলের চলাচল ও নির্মাণ কাজের নিরাপত্তা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতা, ঘটনার কারণ নিরূপণ এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম, ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্তসহ পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরো তথ্য প্রকাশ্যে আসার প্রত্যাশা জনসাধারণের মধ্যে রয়েছে। একইসঙ্গে নিহতের পরিবারকে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি উঠেছে।
নিহতের গ্রামের স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন; অনেকে ঢাকায় ছুটে গেছেন। স্থানীয় বসতঘরগুলোর মধ্যে একটি ঘরে কখনো থাকতেন আবুল—তা এখন তালাবদ্ধ। গ্রামের মানুষেরা জানাচ্ছেন, তিনি পরিশ্রমী ছিলেন এবং পরিবারের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। পরিবার-পরিজনের আহাজারি, গ্রামের মানুষের বিবর্ণ চোখে দেখা যায়।
প্রতিবেদন তৈরি হওয়ার সময় পর্যন্ত ঘটনার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া, মেট্রোরেলের তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রাথমিক প্রতিবেদনের আলোকে কর্তৃপক্ষের বিবৃতি বা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গ্রহণ হয়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ চলছে এবং মরদেহ ডাক্তারি পরীক্ষার পর নামজদ ও পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র: প্রথম আলো