গণভোট ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে জাসদের আপত্তি

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২২ অপরাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোটকে ঘিরে একাধিক সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক আপত্তি তুলে ধরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলজাসদ।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি চিঠি হস্তান্তর করে।

চিঠিতে জাসদ অভিযোগ করে, তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে থেকে কেবল কয়েকটি বাছাইকৃত দলকে সংলাপে ডেকেছে, যা বৈষম্যমূলক। অতীতে উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়া একাধিক নিবন্ধিত দলকেও এ সংলাপের বাইরে রাখা হয়েছে বলে দাবি করে দলটি।

জাসদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের Special Reference No. 01/2024এর আলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব কেবল নির্বাহী কার্য পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ অবস্থায় গণভোট আয়োজনের মতো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার তাদের নেই। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে জাসদ গণভোট আয়োজনকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন যেন কোনো বেআইনি কার্যক্রমে যুক্ত না হয়সে আহ্বান জানায়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, একদিকে নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে দায়মুক্তি দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে হাজার হাজার গায়েবি মামলা দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। জাসদ সভাপতি **হাসানুল হক ইনু**সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও প্রদত্ত রায় বাতিল না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে দলটি মনে করে।

জাসদের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের কার্যালয়ে হামলা ও দখলদারিত্বের অভিযোগও তোলা হয় চিঠিতে। এসব কার্যালয় দখলমুক্ত করা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ছাড়া নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে না বলে উল্লেখ করা হয়।

ধর্মভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে জাসদ জানায়, সংবিধান অনুযায়ী রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সাংবিধানিক নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে নাএ নিয়ে দলটি উদ্বেগ প্রকাশ করে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে লুণ্ঠিত ও পাচার হওয়া অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার এবং মব সন্ত্রাস দমন ছাড়া রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় বলে মত দেয় জাসদ। নির্বাচনের আগে গণহারে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সবশেষে জাসদ জানায়, উল্লিখিত সাংবিধানিক ও আইনি নিশ্চয়তার আওতায় সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য তৈরি, নির্বাচনী আইন সংস্কার এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস করে অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান ও ওবায়দুর রহমান চুন্নু।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh