সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

সিলেট টু ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র নিউপোর্ট শাখার উদ্যোগে সভা ও ডিনার পার্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় যুক্তরাজ্যের নিউপোর্ট শহরের তারানা রেস্টুরেন্টে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
সংগঠনের নিউপোর্ট শাখার কনভেনর সাবেক ছাত্রনেতা ফয়ছল রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এনামুল হোসেন সুয়েব ও কমিউনিটি সংগঠক শাহ শাফি কাদিরের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় কনভেনর, কমিউনিটি লিডার ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহসহ সংগঠনের উপদেষ্টা ও কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা শাহীন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি, যা প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি সিলেট–ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পুনর্বহাল এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালুর জোর দাবি জানান।
বিশেষ অতিথি শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ বলেন, ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ওসমানী বিমানবন্দর ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও দুই দশক পরও এটি কার্যকর পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে সিলেট অঞ্চলের লাখো প্রবাসী প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর যুক্তরাজ্য–সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালু হলেও সিলেট–ম্যানচেস্টার রুটে বারবার ফ্লাইট বন্ধ ও চালুর কারণে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে প্রবাসীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা মাসুদ আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি থাকলেও বর্তমানে ওসমানীতে মূলত বাংলাদেশ বিমানের সীমিতসংখ্যক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। অথচ চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক বিদেশি এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে, যা সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের সঙ্গে বৈষম্যের শামিল।
সভাপতির বক্তব্যে ফয়ছল রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিমানের মোট যাত্রীর বড় অংশ সিলেট অঞ্চলের হলেও সিলেট রুটে টিকিটের ভাড়া তুলনামূলক বেশি নির্ধারণ করা হয়। একই আন্তর্জাতিক রুটে ঢাকা ও সিলেটগামী যাত্রীদের ভাড়ার পার্থক্য অযৌক্তিক। এছাড়া চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস প্রক্রিয়ায় যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নতুন প্রজন্মের প্রবাসীদের দেশে আসার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।
বক্তারা জানান, ওসমানী বিমানবন্দরে আধুনিক টার্মিনাল ভবন, আন্তর্জাতিক মানের ফুয়েলিং সিস্টেম ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলেও বিদেশি এয়ারলাইন্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ওপেন স্কাই লাইসেন্স এখনো ইস্যু হয়নি। দ্রুত এ লাইসেন্স প্রদান করা হলে বিদেশি এয়ারলাইন্স পরিচালনায় আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না বলে তারা উল্লেখ করেন।
দাবি পূরণ না হলে দেশ–বিদেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।