সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম
সম্প্রতি হিথরো বিমানবন্দরে সিলেটগামী এক প্রতিবন্ধী যাত্রীর প্রতি বাংলাদেশ বিমানের স্টাফ-ক্রূরা ভীষণ বেআইনী, বৈষম্যমূলক ও অপমানজনক ব্যবহার করে এবং পরে কোন রকম ব্যাখ্যা বা কারণ না দেখিয়েই ঐ যাত্রীকে প্লেন থেকে নামিয়ে দেয়া (অফ লোড করা) হয়। এই প্রতিবন্ধী যাত্রীর সাথে বিমানের নির্ধারিত ফরমে ভ্রমনের মেডিকেল সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও বিমানের একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে ঐ যাত্রী ও তার পরিবারকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ ফেব্রুয়ারী রবিবার। বিমান ফ্লাইট নং বিজি ২০২ যোগে ঐ যাত্রী এবং তার স্বামী দেওয়ান কবীর আহমদ লন্ডন থেকে সিলেট যাচ্ছিলেন। সংশ্লিষ্ট যাত্রী জিনাত আহমদ ডেমেনশিয়া আক্রান্ত। তিনি নিজে চলাফেরা করতে পারেন না বা আশেপাশে কি হচ্ছে বা ঘটছে এসব ব্যাপারে তার তেমন কোন বোধশক্তি নেই। এ ছাড়া তার আর কোন সমস্যা বা অসুস্থতা নেই । তিনি সব সময় চুপচাপ থাকেন, কোন হট্টগোল করেন না। তার সাথে বিমানের নির্ধারিত ফরমে জিপির দেয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ছিল যাতে লেখা ছিল যে ঐ যাত্রী সিলেট পর্যন্ত যাত্রার জন্য ফিট (বা উপযুক্ত)। ঐ যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে বিমান কাউন্টারে পৌঁছলে সব কাগজপত্র দেখে কাউন্টার থেকে ফলা হয় যে এ রকম যাত্রীকে তারা নেবে না। কিছু আলাপ আলোচনার পরে বলে যে ঐ মেডিক্যাল সার্টিফিকেট চলবে না; এটা ২ তারিখের ইস্যু করা। সার্টিফিকেট যাত্রার ৭২ ঘন্টার মধ্যে ইস্যু করা হতে হবে। স্বামী দেওয়ান কবীর আহমদ আপত্তি করে বলেন এ রকম সময় সীমার ব্যাপারে কিছু কোথাও লেখা নাই। শেষ পর্যন্ত তিনি অনুরোধ করেন যে এই শর্তের কথাটা লিখে দিতে তা হলে তিনি তার জিপির সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করতে সুবিধা হবে। এমতাবস্থায় কাউন্টার থেকে ফোনে কারো সাথে কথাবার্তা বলার পর তাদের দুজনকে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়। তাদের দু’জনকে দুই গেট দিয়ে প্লেনে নেয়া হয়। কবীর আহমদ ঢুকে দেখেন তার স্ত্রী প্লেনে নেই। খোঁজ নিলে তাকে জানান হয় যে তার স্ত্রীকে প্লেন থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। চিফ পার্সার (সিপি) জানান যে এই যাত্রীকে তারা নিতে পারবেন না। আর কোন রকম ব্যাখ্যা ছাড়া বা কোন রকম সার্টিফিকেট বা নোট না দিয়েই তাদের মালামাল নামিয়ে দিয়ে বিমান চলে যায়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে বিশেষ সুবিধা পাবার দাবীদার। এমতাবস্থায় বিমানের এ রকম আচরন বেআইনী, বৈষম্যমূলক, অন্যায় ও নিষ্ঠুর। জাতীয় এয়ার লাইনের এ রকম আচরনে সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা ক্ষুব্ধ। এ ব্যাপারে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায় তা তারা ভাবছেন।