চানখারপুলে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোয় দুজন আটক, মগবাজারে চার তরুণ-তরুণীর পদযাত্রা

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় ঢাকার চানখারপুল মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীসহ দুজনকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়।

এদিনই দুপুরে মগবাজার এলাকায় ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে পদযাত্রা করেছেন চার তরুণ-তরুণী। তাদের একজন বলেছেন, ‘পদযাত্রা নিয়ে তারা কোনো বাধার মুখে পড়েননি।’

চানখারপুলে আটক আসিফ আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আটক করে পুলিশ। তার কিছুক্ষণ বাদে সেখান থেকে সাউন্ড বক্স জব্দ করে অপারেটরকে আটক করে নিয়ে আসে পুলিশ।

চানখারপুল মোড়ের এক দোকানি গণমাধ্যমকে বলেন, “৩টা বাজে দোকান বসাইছি। তখন দেখি দুজন আইসা ভাষণ বাজাইতেছে। পরে তাদেরকে পুলিশ নিয়ে গেছে।”

যোগাযোগ করা হলে শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ। তাই তাদের যেকোনো কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।”

৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আপনি সাংবাদিক হয়ে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করছেন কেন?”

মগবাজারে পদযাত্রা

হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি হাতে নিয়ে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে মগবাজার এলাকায় পদযাত্রা করেছেন চার তরুণ-তরুণী। দুপুর ১টার দিকে মগবাজার চার রাস্তা মোড় থেকে এফডিসি গেট হয়ে হাতিরঝিল এলাকা প্রদিক্ষণ করেন তারা।

তাদের মধ্যে অভিনেত্রী মিষ্টি শুভাষ, ইকবাল হোসেনসহ চারজন ছিলেন।

মিষ্টি শুভাষ বলেন, “ছোট সময় থেকে ৭ মার্চে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে আসছি। এই দিনটিতে বাসা থেকে বের হলেই সবখানে বেজে উঠতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের ৭ মার্চের ভাষণ।’

“গত দেড় বছরে এটা শুনতে পাই না, মনের মধ্যে খুব কষ্ট লাগে। তাই আমরা কয়েকজন একটি সাউন্ডবক্স নিয়ে ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে বাজাতে রাস্তায় নেমে পড়ি।”

কোনো বাধার মুখে পড়েছেন কি না? জবাবে তিনি বলেন, “সবাই দেখলাম, তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে আমরা কী করি। একজন বললো, ‘তাড়াতাড়ি চলে যাও, ঝামেলা হবে’। কে কী বলবে, সেটা চিন্তা করি নাই।”

ইতিহাসের বাঁক বদলে যাওয়াতে শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ৭ মার্চ এখন আসে ভিন্ন বাস্তবতায়।

আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ৭ মার্চ উদ্‌যাপনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসে যে ছেদ পড়ছিল, বিএনপির নতুন সরকারেও তা কাটেনি।

শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রবল গণ আন্দোলনের মুখে চব্বিশের ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগ।

হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকালে প্রতিবছরই নানা কর্মসূচিতে পালিত হত জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া দিনটি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

বদলে যাওয়া বাস্তবতায় ঐতিহাসিক এই দিনে কোনো কর্মসূচির কথা শোনা যায়নি। গত বছর মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। দলটির নেতাকর্মীরা হয় পলাতক, নয়ত জেলে।

ক্ষমতা হারানোর পর থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ড ফেইসবুকেই সীমাবদ্ধ; ৭ মার্চ ঘিরেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh