ইরান সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বাতিল — সৌদিতে শত শত যাত্রী আটকে পড়েছেন

জাহেদী ক্যারল, মদিনা থেকে,

  • প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় বেশ কয়েকটি দেশ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বহু ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।

পবিত্র রমজান মাসে উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মুসল্লি মক্কা ও মদিনায় অবস্থান করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ে নিজ দেশে ফিরতে পারেননি এবং বর্তমানে সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন।

লন্ডন প্রবাসী আব্দুল হান্নান বাবলা জানান, তিনি গতকাল মক্কা থেকে মদিনায় এসে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক হোটেলে খালি কক্ষের খোঁজ করেন। কিন্তু কোথাও জায়গা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েন। শেষ পর্যন্ত আরেক লন্ডন প্রবাসী হাজী মিজানুল চৌধুরীর সহায়তায় তিনি তাঁর কক্ষে আশ্রয় পান এবং মেঝেতে শুয়েই রাত কাটাতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতিতে আরও অনেক যাত্রী একইভাবে কষ্ট করে রাত পার করছেন।

বর্তমানে মক্কা ও মদিনার প্রায় সব হোটেলই পূর্ণ (হাউজফুল) থাকায় বহু যাত্রী হোটেলের লবি, মসজিদের চত্বর কিংবা বিমানবন্দরে বসে সময় কাটাচ্ছেন। এতে করে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাবে ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন বিকল্প রুট ব্যবহার করে সীমিত আকারে ফ্লাইট পরিচালনা করলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক ফ্লাইট পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।

সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। যাদের ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল বা যারা নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের অনেকেই বিমানবন্দর ও হোটেলে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণ ও বিকল্প ভ্রমণ ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিকিটের পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। নগদ রিফান্ডের পরিবর্তে অনেক যাত্রীকে ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য ভাউচার বা নতুন তারিখে ফ্লাইট পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, যা ইতোমধ্যেই মানসিক ও আর্থিক চাপে থাকা যাত্রীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাত শুরুর পরপরই হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। এদিকে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এবং নিয়মিতভাবে ফ্লাইটের সর্বশেষ আপডেট যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।

দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল কবে পুরোপুরি শুরু হবে, তা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh