ইউনিভারসেল পিস ফেডারেশন  নেতৃত্ব এবং  বালানাথিনি বালাসুব্রামানিয়ামের শান্তি দূত স্বীকৃতি

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন,

  • প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

গেল ২১ মার্চ ২০২৬ শনিবার,  লন্ডন সময় বিকেল পাঁচ ঘটিকায়,  সেন্ট্রাল লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার গেটের একটি হলে, ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন (ইউপিএফ) কর্তৃক আয়োজিত  অনুষ্টানে ‘‘স্মল ড্রপস‘‘ এর কর্ণধার,  মানবাধিকার কর্মি, বালানানথিনি বালাসুব্রামানিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি দূত  হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।  যিনি নীলা বালা নামে অধিক পরিচিত।   তার এই নিয়োগ, নৈতিক নেতৃত্ব, আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ এবং নীতিভিত্তিক শান্তির পক্ষে কাজ করার প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকারের স্বীকৃতি।  যা বিশ্বজুড়ে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউপিএফ-এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০০৫ সালে সান মিয়ং মুন এবং হাক জা হান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন (ইউপিএফ) হলো একটি বিশ্বব্যাপী বেসরকারি সংস্থা, যা শান্তি প্রতিষ্ঠা, পুনর্মিলন এবং আন্তঃধর্মীয় সহযোগিতার জন্য নিবেদিত। ইউপিএফ জোর দিয়ে বলে যে, শান্তি কেবল সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়; এর জন্য প্রয়োজন ন্যায়বিচার, নৈতিক শাসন, পারস্পরিক সমৃদ্ধি এবং মানবতার প্রতি সক্রিয় সেবা। ১৫০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে ইউপিএফ তিনটি স্থরে  বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। **স্থানীয় সম্পৃক্ততা**: শিক্ষামূলক কর্মসূচি, সামাজিক পুনর্মিলন প্রকল্প এবং যুব নেতৃত্ব উন্নয়ন। **আঞ্চলিক সহযোগিতা**: সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় আন্তঃসীমান্ত সংলাপ ও উদ্যোগ।  **আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব:** ইকোসক (ECOSOC)-এর সাথে এর **সাধারণ পরামর্শমূলক মর্যাদার** মাধ্যমে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তঃসরকারি সংস্থাগুলোর সাথে পরামর্শমূলক অংশগ্রহণ। এর মূল নীতিগুলো—পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, সার্বজনীন মূল্যবোধ, নৈতিক নেতৃত্ব এবং বৃহত্তর কল্যাণের জন্য সেবা—এর কার্যক্রম ও কর্মসূচিগুলোকে পরিচালিত করে, যা সংস্থাটিকে তৃণমূল জনগোষ্ঠী এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কাঠামোর মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ  করে।

লন্ডনের এই সমাবেশটি ইউপিএফ-এর সুসংগঠিত নেতৃত্ব এবং প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের পরিশ্রমের সুফল।  *মহাসচিব- রবিন মার্শ – কৌশলগত সমন্বয় এবং সাংগঠনিক পরিচালনা তত্ত্বাবধান করবেন।  *পরিচালক: মার্গারেট আলী – কর্মসূচি তত্ত্বাবধান এবং পরিচালন গত নেতৃত্বের দায়িত্ব প্রাপ্ত।  * ভবিষ্যৎ পরিচালক:** ইভা চ্যান – নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। **পৃষ্ঠপোষক:** ইয়ান পেলহ্যাম টার্নার – কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও সমর্থন প্রদানের জন্য। **ইউপিএফ উত্তর ইউরোপের প্রাক্তন সভাপতি:** রেভারেন্ড ডক্টর ডেভিড খান্না – সংস্থায় তাঁর পূর্ববর্তী নেতৃত্ব এবং চলমান প্রভাবের জন্য স্বীকৃত। এই ব্যক্তিগণ **নীতিভিত্তিক শাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব এবং কার্যকর সাংগঠনিক তত্ত্বাবধানের** প্রতি ইউপিএফ-এর অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা ফেডারেশনের বৈশ্বিক কার্যক্রমে কৌশলগত সংগতি ও নৈতিক অখণ্ডতা উভয়ই বজায় রাখা নিশ্চিত করেন।

এই অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন  রোটারিয়ান অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন শান্তি প্রতিষ্ঠায় **বহু-খাতভিত্তিক সহযোগিতায় তাদের অবদান রয়েছে। যা ইউপিএফ-এর দর্শনকে প্রতিফলিত করে। উল্লেখযোগ্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন রোটেরিয়ান নেইল স্টেফানোভা এবং ডেম প্রিন্সেস ফোটিনি গুডেলা। তাঁদের উপস্থিতি শান্তি উদ্যোগের প্রভাবকে আরও প্রসারিত করতে সুশীল সমাজ এবং জনহিতকর নেটওয়ার্কগুলোকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।**শান্তি প্রসারের প্রক্রিয়া** ইউপিএফ শান্তি ও নৈতিক শাসনব্যবস্থা প্রসারের জন্য একটি বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করে: ১. **কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা**: সহযোগিতা ও সংঘাত নিরসনের কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক নেতা এবং আন্তঃধর্মীয় প্রতিনিধিদের একত্রিত করা। ২. **আন্তঃধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংলাপ**: বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।  ৩. **শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশ**: যুবক ও প্রাপ্তবয়স্কদের নৈতিক নেতৃত্ব এবং সমাজসেবার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান। ৪. **আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা**: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন কাঠামোর সাথে উদ্যোগগুলোকে সমন্বয় করা। ৫. **জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম**: গবেষণা প্রকাশ, সেমিনার আয়োজন এবং সার্বজনীন শান্তির নীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে, ইউপিএফ তৃণমূল উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক শাসনের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে এবং টেকসই শান্তির জন্য বাস্তব পদক্ষেপের পাশাপাশি নৈতিক নেতৃত্বের প্রসার ঘটায়।**বালানাথিনি বালাসুব্রামানিয়ামের নিয়োগের তাৎপর্য**শান্তি দূত পদমর্যাদা প্রদান **বালানাথিনি বালাসুব্রামানিয়ামের নৈতিক সেবা, আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ এবং নীতিভিত্তিক নেতৃত্বের প্রতি নিষ্ঠার* স্বীকৃতিস্বরূপ। একজন শান্তি দূত হিসেবে, তিনি নিম্নলিখিত দায়িত্ব পালনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলেন: – স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে শান্তি ও পুনর্মিলনকে উৎসাহিত করে এমন উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়া – নাগরিক, শিক্ষাগত এবং কূটনৈতিক ফোরামে ইউপিএফ-এর প্রতিনিধিত্ব করা – সাংস্কৃতিক, নাগরিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব সহজতর করা – ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নীতিভিত্তিক শাসনের পক্ষে কথা বলা  তাঁর এই নিয়োগ ইউপিএফ-এর এই আদর্শকে প্রতিফলিত করে যে, **শান্তি একটি সক্রিয় ও নৈতিক চর্চা**, যার জন্য সমাজের সকল স্তরে ব্যক্তিগত অঙ্গীকার, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন। ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ল্যাঙ্কাস্টার গেটের সমাবেশটি **অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহু-খাতভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠায়** ইউপিএফ-এর অঙ্গীকারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। **শান্তি দূতদের স্বীকৃতি, কৌশলগত নেতৃত্ব এবং সুশীল সমাজের সাথে সম্পৃক্ততাকে** একীভূত করার মাধ্যমে ফেডারেশনটি দেখিয়েছে যে, টেকসই শান্তি **নৈতিক শাসন, নীতিভিত্তিক নেতৃত্ব এবং সমন্বিত বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার** উপর নির্ভরশীল।স্মল ড্রপস **বালানানথিনি বালাসুব্রামানিয়ামের** নিয়োগ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে ব্যক্তিগত নৈতিক নেতৃত্বের অপরিহার্য ভূমিকাকে তুলে ধরে, যা ইউপিএফ-এর এই পথনির্দেশক নীতিকে আরও শক্তিশালী করে যে **সেবা, সহযোগিতা এবং সার্বজনীন নৈতিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই শান্তি অর্জিত হয়**।১. *ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন*, “ইউপিএফ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ২০ বছর উদযাপন করছে,” UPF.org। ২. *ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন*, “জাতিসংঘ সম্পর্ক,” UPF.org। ৩. *অ্যাম্বাসেডরস ফর পিস*, “আমরা কারা,” Peace-Tour.org। ৪. কিছু অংশগ্রহণকারীর (রোটারিয়ান অংশগ্রহণকারী) নাম ও ভূমিকা **সর্বজনীনভাবে যাচাইযোগ্য নয়**।  *অ্যাম্বাসেডরস ফর পিস*। “আমরা কারা।” Peace-Tour.org। মার্চ ২০২৬-এ সংগৃহীত।  *ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন*। “ইউপিএফ সম্পর্কে।” UPF.org। মার্চ ২০২৬-এ সংগৃহীত।  *ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন*। “বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউপিএফ-এর ২০ বছর পূর্তি।” UPF.org। মার্চ ২০২৬-এ সংগৃহীত।  *ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন*। “জাতিসংঘ সম্পর্ক।” UPF.org। মার্চ ২০২৬-এ সংগৃহীত।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh