সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম
যুক্তরাজ্যে ফার-রাইটের উত্থান এবং ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে দেশটির শীর্ষস্থানীয় মসজিদ ও মুসলিম সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলো জাতীয় বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
‘টুগেদার অ্যালায়েন্স’-এর উদ্যোগে এই বিক্ষোভ আগামী শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় সেন্ট্রাল লন্ডনের পার্ক লেনে অনুষ্ঠিত হবে। সদ্য গঠিত এই জোটে বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মুসলিম কমিউনিটি সংগঠন যুক্ত হয়েছে। জোটটি যুক্তরাজ্যের প্রায় ৭ মিলিয়ন মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে বলে জানানো হয়েছে।
আয়োজকরা মুসলমানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষকে বিক্ষোভে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান বিভাজন, বর্ণবাদ ও মুসলিমবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ জানাতে এই অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ইসলামোফোবিয়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে ৬ হাজার ৩১৩টি মুসলিমবিরোধী ঘটনার রেকর্ড হয়েছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৮৩৭টি যাচাইকৃত। আগের বছরের তুলনায় মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনার হার বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। একই সঙ্গে ইসলামোফোবিক হামলা ৭৩ শতাংশ, হুমকিমূলক আচরণ ৩২৮ শতাংশ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯০টি হেট ক্রাইম রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে মুসলিমদের লক্ষ্য করে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধ বেড়েছে ১৯ শতাংশ।
আয়োজকদের মতে, ফার-রাইট গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ও প্রভাব সমাজের কিছু অংশে বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে এখনই সময় সব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘৃণা, বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার।
তারা আরও বলেন, মুসলিমসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
বিক্ষোভে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন টুগেদার অ্যালায়েন্সের চেয়ার কেভিন কোর্টনি, দ্য কর্ডোবা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবদুল্লাহ ফালিক, মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের দিলোয়ার খান ও ড. মনোয়ার হোসেন, ফ্রেন্ডস অব আল আকসার শামিউল জোয়ার্দার এবং স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম-এর যৌথ আহ্বায়ক ওয়েইম্যান বেনেট।
কমিউনিটির সদস্যদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিভাজন ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা দেওয়া যায়।