বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন সহজের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৪ মে ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ


দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কল-কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা জানতে এবং সেগুলো খুলে দিতে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বৈঠক চলে প্রায় দুই ঘণ্টা।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা দূর করা জরুরি।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানাগুলোতে যারা ‘আন্তরিকভাবে’ বিনিয়োগ করতে চান, তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসের কথাও বৈঠকে বরেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুমতি নেওয়ার জটিলতাও বড় বাধা হিসেবে কাজ করে।

বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এবং শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

মে দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জানলে খুশি হবেন, আমি নির্দেশনা দিয়েছি যে, কীভাবে আমরা কত দ্রুত বন্ধ কলকারখানার কোনটি কোনটি চালু করতে পারব, যাতে আবার সেই সকল শ্রমিক যারা কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে গিয়েছিল সেই সকল শ্রমিকের কর্মের ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। সেই মিটিংটি এই সপ্তাহে আবার নির্ধারিত হয়েছে।

“ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের অনেকগুলো কল কারখানা, যেগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে বিগত বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমিকভাবে, আমরা সেই কল কারখানাগুলোকে আবার চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। শুধু এই বন্ধ কলকারখানা চালু হলেই সকল শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে না আমরা জানি। এই শ্রমিকদের পাশাপাশি আরো বহু লক্ষ হাজারো লক্ষ বেকার এখন এই দেশে রয়ে গিয়েছে।”

তিনি বলেন, “তাদের জন্য দেশে আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদেরকে বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেইজন্যই আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীসহ দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সাথে এরই ভেতরে আলোপ আলোচনা শুরু করেছি। আমরা তাদেরকে উৎসাহ প্রদান করছি।

“আমরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। যাতে করে সে বিনিয়োগকারীরা সে দেশিই হোক অথবা বিদেশই হোক, এই দেশে কল কারখানা তৈরি করে।”

তারেক রহমান বলেন, “আমরা জানি এই দেশে কলকারখানা তৈরি হলে এই দেশের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। আমরা জানি, শ্রমিকরা যদি ভালো থাকে তাহলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। আমরা জানি কৃষকরা যদি ভালো থাকে তাহলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে।

“অর্থাৎ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যখন ভালো থাকবে তখনই এই দেশ, বাংলাদেশ ভালো থাকবে। এবং সেজন্যই প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনারা দেখেছেন আমরা জানি, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আছি।”

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh