শিশু রামিসা হত্যা-ধর্ষণের বিচার শুরু সোমবার: আইনমন্ত্রী

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ


আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঢাকায় শিশু রামিসা আক্তার হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার কার্যক্রম আগামীকাল সোমবার (১ জুন) শুরু হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে।

রোববার (৩১ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের উন্নয়ন সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। সরকার শুরু থেকে ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। দোষী প্রমাণিত হলে আসামি সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।

আইনমন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণের জন্য এখনও বিরোধী দল তাদের কোনো প্রতিনিধি বা সদস্যের নাম জমা দেয়নি। সরকার এ বিষয়ে অপেক্ষা করছে এবং সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়।

তিনি আরও জানান, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম-সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম ও আইনগত কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সুপারিশ এসেছে। সেগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য উপকারভোগীদের জেলা পরিষদের অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

গত ১৯ মে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তের পর পুলিশ জানায়, স্কুলে যাওয়ার সময় রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে অপরাধ ঢাকতে তাকে গলা কেটে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনায় মূল ঘাতক সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোহেল আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh