ইতিহাসের উষ্ণতম বছরের আশঙ্কা

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’।

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর প্রভাবে কেন্দ্রীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম উষ্ণ বছর ও চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (এনওএএ) আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনোর সূচনার কথা নিশ্চিত করেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্র, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। এনওএএ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ। এমন হলে এটি ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘এল নিনো উষ্ণ হওয়া বিশ্বের আগুনে আরও জ্বালানি ঢালবে।’ বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, একটি ‘সুপার এল নিনো’ ২০২৬ বা ২০২৭ সালকে রেকর্ড ইতিহাসের উষ্ণতম বছরে পরিণত করতে পারে, যা ২০২৪ সালকেও ছাড়িয়ে যাবে।

স্বাভাবিক অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্যিক বায়ু পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয় এবং দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ পানি এশিয়ার দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু এল নিনো তৈরি হলে এই বাতাস দুর্বল হয়ে উষ্ণ পানি আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের দিকে ফিরে আসে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় জেট স্ট্রিম দক্ষিণে সরে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরন পাল্টে যায়।

‘সুপার এল নিনো’ সাধারণত ক্যারিবিয়ান ও আটলান্টিকে ঘূর্ণিঝড় দুর্বল করে দেয়, কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে ঝড় শক্তিশালী করে তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে শীতকাল আরও ঠান্ডা ও বৃষ্টিপাতময় হতে পারে। এছাড়া ক্যারিবিয়ানে খরা, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গ্রীষ্মকালীন বর্ষার পরিমাণ কমে যেতে পারে।

অর্থনৈতিক ক্ষতির দিক থেকে ঝুঁকিটি বিশাল। ২০২৩ সালে ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮২-৮৩ সালের এল নিনোতে বিশ্বব্যাপী আয়ের ক্ষতি হয়েছিল ৪ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ১৯৯৭-৯৮ সালেরটিতে ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। তবে এনওএএর বিজ্ঞানী মিশেল লে’হেরেসে বলেছেন, ‘শক্তিশালী এল নিনো সব সময়ই শক্তিশালী প্রভাব ফেলবে এমন নয়। তবে এটি কিছু নির্দিষ্ট প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।’

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh