মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি, লাইসেন্স পুনর্বিবেচনার আপিল করব: আদ-দ্বীনের পরিচালক

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা এবং হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে প্রভাব খাটাতে অর্থ নিয়ে ঘোরার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছেন।

সোমবার অনুষ্ঠিত ওই ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “মন্ত্রীর পেছনে আমি টাকা নিয়ে ঘুরিনি।”

তিনি বলেন, মন্ত্রীর পেছনে অর্থ নিয়ে ঘোরার অভিযোগ সত্য নয়। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে হাসপাতালের পুরো ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নতুন করে সংস্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের ভেতরে থাকা বেকারি কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ডা. শেখ মহিউদ্দিন জানান, হাসপাতাল বন্ধের ঘোষণার পর নতুন রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। তবে বর্তমানে কয়েকজন সংকটাপন্ন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা হবে বলেও জানান তিনি।আমি কেন টাকা নিয়ে মন্ত্রীর পেছনে ঘুরব, বক্তব্যের প্রমাণ মন্ত্রীকেই দিতে হবে: আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক | The Business Standard

এর আগে গত ১৩ জুন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, আদ-দ্বীন হাসপাতাল লাইসেন্স রক্ষার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করার চেষ্টা করেছিল। তবে তা সত্ত্বেও হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটির চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নবজাতকদের অবস্থার অবনতি হলেও সেখানে কার্যকর জরুরি চিকিৎসা সেবা ছিল না। ঘটনাকালে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের অবহেলার বিষয়ও তদন্তে উঠে আসে।

এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব পর্যালোচনার পর গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh