ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৯০০ সেনা মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৯০০-এর বেশি সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার ভেতরে মোতায়েন করা এই সেনাদের পাশাপাশি পুয়ের্তো রিকো ও কিউরাসাও দ্বীপে আরও প্রায় ৮০০ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ডনোভান জানান, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়ার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দর সচল করতে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। এছাড়া অন্তত ৪ থেকে ৫টি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ব্যবহার করে আকাশ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও চলাচলের রাস্তা শনাক্ত করে ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায় থেকে যা দেখা সম্ভব নয়, আমরা ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে সেই চিত্রগুলো তুলে ধরছি।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার এই পারস্পরিক সহযোগিতা এক নাটকীয় পরিবর্তন। গত ৩ জানুয়ারি মাদক পাচারের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। অথচ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই তিক্ত সম্পর্ক এখন মানবিক সহযোগিতার পথে মোড় নিয়েছে। ডনোভান বলেন, ‘৩ জানুয়ারি খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। ভাবুন, এই সময়ের মধ্যে আমাদের সম্পর্কের কতটা পরিবর্তন ঘটেছে।’

গত বুধবার আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। মঙ্গলবার উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সময় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন কাউকে জীবিত পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। মার্কিন মেরিন সেনারা প্রথম দিন থেকেই উদ্ধারকারীদের সঙ্গে শাবল ও কোদাল হাতে স্তূপ সরানোর কাজ করছেন।

ভেনেজুয়েলার সরকার প্রথম দিকে উদ্ধারকাজে আধুনিক সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল পাঠাতে দেরি করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জেনারেল ডনোভান সতর্কতার সঙ্গে জানান, বিগত কয়েক দশকের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এই উদ্ধার কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই মিশন কত দিন স্থায়ী হবে সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে থেকে যাওয়ার কোনো উদ্দেশ্য নেই। কাজ শেষ হলেই আমরা চলে যাব।’ তবে এই উদ্যোগের ফলে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের ভবিষ্যতে উন্নতি ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh