দেশের পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্দরে সতর্কসংকেত বহাল

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ

দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবারের তুলনায় পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার যেখানে ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল, আজ শুক্রবার তা কমে পাঁচটিতে নেমেছে।

তবে আগামী কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি মূলত বৃষ্টির ধরনের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শুক্রবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রের প্রকাশিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশের চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, গতকালের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে কোথায় কত বৃষ্টি হবে, বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে বৃষ্টির পরিমাণের ওপর আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদের পানি মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদের পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৪৩টিতে কমছে এবং পাঁচটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, উজান ও দেশের ভেতরে বৃষ্টির প্রবণতা আগামী কয়েক দিনের নদীর পানির গতিপ্রকৃতি এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh