প্রহসন নয়, আজই নিয়োগপত্র চাই : শাহবাগে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রার্থীদের অবস্থান

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ণ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও এখনো নিয়োগপত্র পাননি অসংখ্য প্রার্থী। দীর্ঘসূত্রতা ও চরম অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে নিয়োগপত্র হস্তান্তরের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এই প্রার্থীরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই শাহবাগ এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সুপারিশপ্রাপ্ত চাকরিপ্রার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপস্থিতি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

এ সময় আন্দোলনরত প্রার্থীদের কণ্ঠে ‘নিয়োগপত্র আজই চাই’, ‘তুমি কে, আমি কে শিক্ষক, শিক্ষক’, এবং ‘প্রহসন চলবে না’ ইত্যাদি জোরালো স্লোগান শোনা যায়। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়ার চূড়ান্ত ধাপে এসে এমন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় তারা গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী প্রার্থীরা জানান, তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর সব কটি ধাপ সফলভাবে পার করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কালক্ষেপণে তা আটকে আছে।

এই বিলম্ব তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে চরম মানসিক চাপ তৈরি করেছে। এর আগে, নিয়োগপত্র বঞ্চিত এসব প্রার্থী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের নিয়োগপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার দিনেই তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।

নিজেদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি কর্মসূচিতে প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন।

তারা বলেন, কোনো প্রার্থী যদি ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকা বা এ ধরনের কোনো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত থাকেন, তবে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে তাদের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু এ ধরনের যাচাই-বাছাইয়ের অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ, যোগ্য এবং নির্দোষ প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কোনোভাবেই আটকে রাখা বা দীর্ঘায়িত করা যাবে না।

আন্দোলনকারীরা সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংস ও যৌক্তিক। কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি বা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে যোগ্য ও সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে না দেওয়া পর্যন্ত তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাঙ্গনে তাদের যোগদানের সুযোগ করে দেবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh