ইরানের কাছে ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ দাবি, জটিল হতে পারে হরমুজ খোলার উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ

শান্তি চুক্তির জন্য ইরানের শর্তের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের দাবি পেশ করে বলেছেন, ইরানকে যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

রয়টার্স লিখেছে, বাগাড়ম্বরের মধ্য দিয়ে এই উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে হরমুজ প্রণালি ফের খোলার প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়তে পারে।

এর আগে ট্রাম্প কখনোই এ ধরনের কোনো দাবি জানাননি। কিন্তু একটি শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে তেহরান ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটনানোর দাবি পুনরাবৃত্ত করার পর ট্রাম্প এমন প্রতিক্রিয়া জানান।

ইরানের দাবিগুলো জুনে স্বাক্ষরিত একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির শর্তাবলীর সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, কিন্তু দুপক্ষের ওই সমঝোতা ভেঙে গেছে।

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প একবার প্রবল হামলা চালিয়ে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিচ্ছেন, আবার পরক্ষণেই একটি শান্তি চুক্তি আসন্ন বলে দাবি করছেন। বারবার নিজের এই দোদুল্যমান অবস্থানের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছেন তিনি।

সোমবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প বলেন, “তারা ৫০ বছর সময় ধরে যে ক্ষতি করেছে তার জন্য অর্থ চাইতে যাচ্ছি আমরা।”

তিনি জানিয়েছেন, এই ক্ষতিপূরণে ওই অঞ্চলে নিহত বেসামরিক বিক্ষোভকারী ও মার্কিন সেনাদের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

“তাই যদি কোনো ক্ষতিপূরণ দিতেই হয়, আমরা মনে হয় ইরানেরই ওইসব ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত,” বলেছেন তিনি।

ট্রাম্প ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিক্ষোভকারীদের ওপর তেহরানের দমনপীড়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ছয় সপ্তাহ আগে ইরান ‘৫২ হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে’। ইরানের কিছু বিরোধীদল ও প্রবাসী গোষ্ঠীর দাবি, প্রায় লাখো মানুষ নিহত হয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) ফেব্রুয়ারিতের দেওয়া প্রতিবেদনে সাত হাজার জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে, যাদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ৬৫০০ জন।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকাশ হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিক্ষোভকারীদের উৎসাহিত করেছিলেন ট্রাম্প। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, ইরান সরকার ওই সময় থেকেই বিরোধীদের দমন করতে শুরু করে।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, ২০০০ সালের অক্টোবরে ইয়েমেনে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল এ চালানো হামলায় যে ১৭ জন নৌ-সেনা নিহত হয়েছিল, তার জন্য ইরানের তাদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। যদিও ওই হামলার জন্য আল কায়েদাকে দায়ী করা হয়, ইরানকে নয়।

ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে তিনি গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষের মৃত্যুর জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন।

ইরান এর আগে জানায়, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নতুন নৌ-চলাচলের পথ নির্ধারণের লক্ষ্যে ওমানের সঙ্গে একটি চুড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে তারা। কিন্তু এই চুক্তির সঙ্গে হরমুজ ফের খুলে দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে তেহরান বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইরানের শর্ত মানতে হবে, যার মধ্যে ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুমকির অবসান ঘটানো অন্যতম।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh