যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নিতে হবে: ইরান

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘অত্যন্ত নিকৃষ্ট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়বে, এ জন্য তিনি মার্কিনদের প্রস্তুত থাকতেও বলেছেন।

ইরান যুদ্ধ অবসানে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও কার্যত অচলই হয়ে আছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে এক পোস্টে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন,এই প্রণালি ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ হবে। তাই যতক্ষণ না আপনারা পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন এবং অলীক কল্পনায় বিভোর থাকা বন্ধ করছেন, ততক্ষণ ইরান অবরোধ বলবৎ রাখবে।

কাজেম আরও বলেন, একটি টুইট বা বিমানবাহী রণতরী দিয়ে, কোনো আদেশ জারি করে কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতা দিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায় না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার কোনো সিদ্ধান্ত ইরান নেয়নি। শনিবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে ইরানের সংবাদমাধ্যম শাহরারা নিউজকে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবার শুরু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, যা এখন কার্যত অচল হয়ে গেছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলতে থাকায় মার্কিনদের পেট্রোলের জন্য আরেকটু বেশি দাম দিতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘পেট্রোলের জন্য সামান্য একটু বেশি দাম দেওয়া সার্থক, যদি এর বিনিময়ে একটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।’ যেসব দাবির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে চান, তাঁর অন্যতম এটি।

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি।

নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প পেট্রোলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এখন বরং পেট্রোলের দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। যার ফলে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে এবং সাধারণ ভোক্তাদের ভেতরে হতাশা দেখা দিয়েছে। যার প্রভাব মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর পড়তে পারে।

আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা নভেম্বরের নির্বাচনে ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। যুদ্ধ নিয়ে ইরান নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখলেও দেশটির অর্থনীতিতে এর ক্ষতির প্রভাব পড়ার লক্ষণ ফুটে উঠেছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh