লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশটির আনসার ও দেইর আল-জাহরানি এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। নিহতদের সাতজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে লেবাননের কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসির।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, রাজধানী বৈরুত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে আনসার শহরের উপকণ্ঠে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন।

লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আনসারে হামলাটি চালানো হয়। ওই এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো বসবাস করছিল। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এলাকায় ধোঁয়া দেখা যায়।

হামলার নিন্দা জানিয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেন, নিহত সাতজনই বেসামরিক নাগরিক এবং সেখানে কোনো সামরিক অবকাঠামো ছিল না।

তিনি ইসরায়েলকে উত্তেজনা বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, লেবাননের জনগণের নিরাপত্তা এবং নিজেদের ভূখণ্ডে বসবাসের অধিকার কোনো আলোচনা বা দর-কষাকষির বিষয় হতে পারে না।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, আনসারে হামলায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসান নিহত হয়েছেন।

আইডিএফের ভাষ্য, ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার পর ওই কমান্ডারকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। তাদের দাবি, হাসান আরও কয়েকজনের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতিতে জড়িত ছিলেন।

ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, হাসান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি সামরিক সদর দপ্তরে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। তবে তার পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি বলে দাবি করেছে আইডিএফ।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ও হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর হামলায় তিন ইসরায়েলি সেনা গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়।

ইসরায়েলের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি হামলাকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে বলেছে, লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের তাদের বাড়িতে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হিজবুল্লাহর অভিযোগ, হামলার পর বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে সামরিক স্থাপনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আনসারের ঘটনার পর শনিবার দেইর আল-জাহরানি এলাকাতেও কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলায় আরও চারজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

ফলে আনসার ও দেইর আল-জাহরানি মিলিয়ে শনিবারের হামলায় মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন।

দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতির পরও এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি ও হামলার ঘটনায় সেখানে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh