থার্ড টার্মিনালের ফের ‘সফট ওপেনিং’ ১৬ ডিসেম্বর

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী বিজয় দিবসে আংশিকভাবে চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করতে আরও সময়ের প্রয়োজন বলে ভাষ্য তার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী মিল্লাত বলেন, ১৬ ডিসেম্বর তারিখকে সম্ভাব্য বিবেচনায় নিয়ে তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিংয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে পুরোপুরি চালু হতে আরও সময়ের প্রয়োজন হবে। বিগত সরকারের আমলে এই টার্মিনালের ভবন উদ্বোধন করা হলেও এটি চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। টার্মিনালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি এবং কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনাও ছিল না।

সেদিন থেকে সীমিত পরিসরে এ টার্মিনালের কার্যক্রম চলবে বলে একে ‘সফট ওপেনিং’ বলছে সরকার।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দৃষ্টিনন্দন থার্ড টার্মিনালের ‘সফট ওপেনিংয়ে’ র সূচনা করেছিলেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন এ টার্মিনাল ব্যবহার করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যায়।

ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে সেবার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, নতুন টার্মিনালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগ করা হবে। তাছাড়া নির্দিষ্ট সংখ্যক কেপিআইয়ের মাধ্যমে সেবার মান মনিটরিং করা হবে।

ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে সময় কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রথম ব্যাগেজ ১৮ মিনিটে যাত্রীর নিকট হস্তান্তর করা হচ্ছে। এই সময়কে আরো কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলমান।

এ ছাড়া টার্মিনালের উড়োজাহাজ অবতরণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

টার্মিনালের আয়ের বণ্টন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পূর্বে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী রাজস্বের ১৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং বাকি ৮৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানির পাওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান সরকার আলোচনার মাধ্যমে সেই অনুপাত পরিবর্তন করে বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ ২৭ শতাংশে উন্নীত করেছে।

২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তিন তলা থার্ড টার্মিনালের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা বছরে এক কোটি ৬০ লাখ। এ টার্মিনালের মোট ফ্লোর স্পেস ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার।

টার্মিনালটির দেয়াল আর ছাদ রাঙানো হয়েছে ষড়ঋতুর ছয়টি রঙের বিশেষ টাইলস দিয়ে। বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই চোখে পড়বে জাতীয় ফুল শাপলা, জলে ভাসা পদ্ম। নান্দকিতার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য অনেকগুলো সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে নতুন টার্মিনালটি।

প্রকল্পের সঙ্গে একটি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল, ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্কিং সুবিধার অ্যাপ্রোন করা হয়েছে। আগে শাহজালালে পার্ক করা যেত ২৯টি উড়োজাহাজ।

টার্মিনালটিকে ‘মাল্টি মডাল ট্রান্সপোর্টেশনের’ সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। হাইওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেলওয়ে যে কোন উপায়ে যাত্রীরা এখানে আসতে যেতে পারবেন।

ওই এলাকা দিয়ে যে মেট্রোরেলের যে লাইন হতে যাচ্ছে, সেটি যুক্ত হবে এই টার্মিনালে। এতে থাকছে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং, যেখানে ১ হাজার ২৩০টি গাড়ি থাকতে পারবে।

নতুন টার্মিনালের যাত্রীদের জন্য ১ হাজার ৩০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি কাস্টমস হলও থাকবে। সেখানে থাকবে ৬টি চ্যানেল। এতে লাগেজ বেল্ট থাকবে ১৬টি, চেক ইন কাউন্টার থাকবে ১১৫টি। এর মধ্যে ১৫টিতে থাকবে অটোমেটেড চেকইন কাউন্টার। এর ফলে ইমিগ্রেশনের লম্বা লাইন আর দেখা যাবে না। টার্মিনালটিতে ইমিগ্রেশনের কাউন্টার থাকছে ১২৮টি, এর মধ্যে অটোমেটেড ১৫টি।

এসব কাউন্টারের মধ্যে বিদেশগামী যাত্রীদের ইমিগ্রেশন হবে ৬৬টি কাউন্টারে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য থাকছে ৫৯টি। ভিভিআইপি ইমিগ্রেশন কাউন্টার হিসেবে থাকছে তিনটি।

বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh