সব
বদরুল ইসলাম, লন্ডন,
ভিক্টোরিয়া পার্কে ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলা, স্মৃতিচারণ, সাফল্য আর ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ ও ভালোবাসাকে উদযাপন উপলক্ষে এক প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। এটি আয়োজন করে “ভিক্টোরিয়া পার্ক লেজেন্ডস”।
লাল দল ও সবুজ দল নামে দুটি দলে বিভক্ত হয়ে সর্বোচ্চ ২৫ অভারের এ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আব্দুস সালামের অধিনায়কত্বে লাল দল জয়ী হয়। সবুজ দলও ভালো খেলেছে। যার অধিনায়ক ছিলেন সুমন মিয়া।
দিগন্ত বিস্তৃত ভিক্টোরিয়া পার্কের সবুজ মাঠজুড়ে ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি।
প্রধানতঃ সাবেক ও কতিপয় বর্তমান খেলোয়াড়, আয়োজক ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনটি।
২৫ বছরের এই যাত্রা শুধু ক্রিকেটের গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ, বন্ধুত্ব, ঐক্য এবং বাঙালি কমিউনিটির এক স্মৃতিময় দীর্ঘ পথচলা।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পরস্পরের আলাপচারিতায় উঠে আসে ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত নানা স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার কথা। একই সঙ্গে ক্রিকেটের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন আয়োজক ও সাবেক ক্রিকেটাররা।
মাঠে ক্রিকেট আর মাঠের বাইরে আনন্দ ও আড্ডা, সব মিলিয়ে দিনটি পরিণত হয় ক্রিকেটপ্রেমীদের এক মিলনমেলায়।
খেলা শেষে, দীর্ঘ এ পথযাত্রায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন এমন ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে এতে যোগ হয় ভিন্ন একটি মাত্রা।
সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়। কিন্তু, ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ ও ভালোবাসা থেকে যায় চিরন্তন। আর সেই ভালোবাসা, স্মৃতি ও সার্থকতার ২৫ বছর উদযাপন করতেই ভিক্টোরিয়া পার্কে জমে উঠেছিল এই ক্রিকেট।
এতে দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিয় সতীর্থ খেলোয়াড়দের পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে দেখা হওয়া, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন আর ক্রিকেট নিয়ে আড্ডার আনন্দঘন একটি পরিবেশ পরিলক্ষিত হয় এদিন।
২৫ বছরের ক্রিকেট যাত্রায় অবদান রেখেছেন এমন কয়েকজনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। তাদের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন উপস্থিত সবাই।
যে চারজনকে লেজেন্ডস এওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে তারা হচ্ছেন: আব্দুস সালাম, মাহফুজুর রব, ইকবাল মিয়া ও মোস্তফা কামাল মিলন। এছাড়াও সার্বিকভাবে ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্যে শাহিদুল আলম রতনকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
আয়োজক ও অতিথিরা তাদের বক্তৃতায় বলেন যে, দীর্ঘ ২৫ বছরের ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা শুধু সাফল্যের গল্পই নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কমিউনিটির মধ্যকার ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, বন্ধুত্ব এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার প্রবল আগ্রহ ও প্রয়াস।
লন্ডন বারা অফ টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিলার, মেয়রের উপদেষ্টা ও কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এ আয়োজনের শোভা ও গুরুত্বকে আরও অনেক বর্ধিত করেছে। তাঁরা পুরো ম্যাচ উপভোগ করেন এবং বিজয়ী কাপ্তানের হাতে কাপ তুলে দেন। এছাড়া, খেলায় অংশগ্রহনকারী ও বছরের পর বছর ধরে যারা ক্রিকেটে অবদান রেখে আসছেন, যথাক্রমে তাদের মেডেল ও প্রশংসাসূচক ক্রেস্ট প্রদান করেন।
এদের মধ্যে ছিলেন, কাউন্সিলর মিনারা খাতুন (লীড মেম্বার ফর কালচার, লেজার এন্ড ট্যুরিজম), কাউন্সিলর আব্দুল ওয়াহিদ (চেয়ার, ডেভেলপমেন্ট) ও মেয়রের হেল্থ এন্ড উয়েল বিইং এন্ড ইউথ বিষয়ক উপদেষ্টা সোহেল মালিক।
তারা তাদের বক্তৃতায় এ অনন্য আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং খেলাধুলা ও শারীরিক সুস্থতা বিষয়ক কর্মকান্ড বজায় রাখা, এমনকি তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য দেওয়া মেয়র লুৎফর রহমানের অঙ্গীকারের পুনরাবৃত্তি করেন। তারা ভিক্টোরিয়া পার্ক লেজেন্ডদের ক্রিড়াকর্মে সদা-সমর্থনের আশ্বাস দান করেছেন।
লাল দলের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে প্রাইড অব এশিয়া আর সবুজ দলের পৃষ্ঠপোষক ইম্প্রেশনের স্বত্ত্বাধিকারী যথাক্রমে ওয়াজিদ হাসান সেলিম এম বি ই ও মঈন উদ্দিন আনছার পুরস্কার বিতরণে অংশ নেন এবং বক্তৃতাকালে তারা ক্রীড়াক্ষেত্রে তাদের সাহায্য-সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। লেজেন্ডরা ক্রিকেটের এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখা এমনকি এর কলেবর বৃদ্ধির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন এবং নিজেদের আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন।
এ আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা রাখা ও সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য প্রাক্তন ক্রিকেটার ইমরান চৌধুরীর প্রশংসা করা হয় এবং কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর হাতে বিশেষ স্মারক হিসেবে নতুন অথচ দৃষ্টিনন্দন একটি ক্রিকেট ব্যাট তুলে দেওয়া হয়।
এ আয়োজনটি সফল ও সার্থক করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটে।