সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর।’ দিবসটি উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে জেলা, উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০১ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রত্যেক শিক্ষককে একটি ক্রেস্ট ও দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে। তবে এমন উৎসবমুখর আয়োজনের উল্টো পিঠেই রয়েছে দেশের লাখো শিক্ষকের আর্থিক অনটন, বেতন-বৈষম্য ও পদোন্নতি বঞ্চনার চরম হতাশা।
সারা দেশের অন্তত ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারি কোনো বেতন ছাড়াই মানবেতর জীবনযাপন ও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হলেও সরকার পরিবর্তনের পর তা আটকে যায়। সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদ অবিলম্বে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, বর্তমান সরকার জনবল কাঠামো ও নীতিমালা পরিবর্তন করে তাদের আবারও এমপিওবিহীন করে বৈষম্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। শিক্ষা সেক্টরে বৈষম্য নিরসনে সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলন করলেও এখনো তারা ১৩তম গ্রেডে কর্মচারী হিসেবেই আটকে আছেন। আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও আইবাস প্লাস প্লাস ফিক্সেশন জটিলতায় প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন আটকে আছে।
পাশাপাশি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতেও পদোন্নতির চরম জট সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার পদ শূন্য থাকলেও প্রায় দেড় হাজার সহকারী শিক্ষকের সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির ফাইল মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। নিয়োগবিধি সংশোধন না হওয়ার অজুহাতে বন্ধ রয়েছে অন্যান্য উচ্চ পদে পদোন্নতি। আদালতের রায় সত্ত্বেও টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ছয় হাজার শিক্ষক-কর্মকর্তা।
ভয়াবহ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। অন্যান্য ক্যাডারের (প্রশাসন বা পুলিশ) তুলনায় সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদায় পিছিয়ে থাকায় অনেকেই শিক্ষকতা ছেড়ে পুনরায় বিসিএস দিয়ে অন্য পেশায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রেডের কোনো পদ নেই; সর্বোচ্চ পদটি চতুর্থ গ্রেডে আটকে আছে। পদোন্নতির বৈষম্য এতটাই প্রকট যে, ২৪তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষা ক্যাডাররা ২২ বছর চাকরি শেষে এখনো পঞ্চম গ্রেডে পড়ে আছেন, যেখানে একই ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা এখন যুগ্ম সচিব। ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রবেশ পদেই আটকে আছেন।
শিক্ষকদের বঞ্চনার এই দীর্ঘ তালিকার পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক চিত্রও রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া এবং মূল পেশা বাদ দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষকদের এসব পেশাগত ও আর্থিক বৈষম্য নিরসন করে তাদের উপযুক্ত মর্যাদা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।