অকৃতকার্য ৪ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ

উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যেই নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের যেন শিক্ষাজীবনের মূল্যবান একটি বছর নষ্ট না হয়, সে জন্যই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এবার এক বিষয়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন ফেল করেছেন। ভর্তি কার্যক্রম ও প্রস্তুতির মধ্যে ভারসাম্য রেখে পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে, তবে প্রস্তুতির জন্য এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে না।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর ইংরেজিতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। ইংরেজি বিষয়ে এই বিশাল ঘাটতি কাটাতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

সার্বিক পাসের হার কমে যাওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের এই ঘাটতি পূরণে মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানকে আশপাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার কথা ভাবা হচ্ছে, তবে এতে কোনো শিক্ষকের চাকরি যাবে না।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর পুনর্নিরীক্ষণে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছিল।

এবার খাতা মূল্যায়নে বড় ধরনের ভুল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পাল্টে দেওয়া বা সংঘবদ্ধভাবে ফল পরিবর্তনের যেসব অপচেষ্টা ধরা পড়েছে, তা নিরসনেও কাজ চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে জানান, এবার উচ্চশিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো মিলিয়ে দেশে প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে, যা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংখ্যার তুলনায় যথেষ্ট। তাই ভর্তি হওয়ার সুযোগ সবাই পাবে। তবে ভর্তির জিপিএ শর্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারণ করবে।

পরিশেষে, তিনি শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে দূরে থেকে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh