শ্রমিক আন্দোলনে ঢুকে ‘পলাতক অপশক্তির’ অস্থিরতা সৃষ্টির প্রমাণ এসেছে: মাহদী আমিন

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সতর্ক করে দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান মাহদী আমিন।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগের মধ্যেই একটি মহল শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

মাহদী আমিন আরও লেখেন, শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে পলাতক অপশক্তির অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্যপ্রমাণ ইতিমধ্যে উঠে এসেছে। তবে ফেসবুক পোস্টে এসব তথ্যপ্রমাণের বিস্তারিত উল্লেখ করেননি তিনি।

পোস্টে মাহদী আমিন লেখেন, আমরা বিশ্বাস করি গঠনমূলক ও বহুমাত্রিক আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের একটি ন্যায়সঙ্গত, যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হবে। তবে উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, যথাসময়ে মজুরি নির্ধারণের ইতিবাচক উদ্যোগের পরও একটি চিহ্নিত মহল গার্মেন্টস শিল্পকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, কারখানায় আক্রমণ ও আগুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ও বক্সে ভাঙচুর কিংবা যানবাহন ও স্থাপনায় হামলার মতো স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থী।

শ্রমিকদের প্রতি মাহদী আমিনের আহ্বান, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, গুজব কিংবা উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। পোশাকশিল্প আর পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় শ্রমিকদের যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার পাশে থাকবে। কারণ, এ শিল্পের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকা, কর্মসংস্থান ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জড়িত।

কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এতে বেকারত্ব বাড়বে, রপ্তানি আয় কমবে ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের সুযোগ দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না। সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

একই সঙ্গে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টিও ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেন মাহদী আমিন।

তিনি জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, অন্যান্য খাতের বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। এ লক্ষ্যে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মাহদী আমিন বলেন, পোশাকশিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরবরাহব্যবস্থা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িত। তাই মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh