সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

ডাক বিভাগের মোবাইলে আর্থিক সেবার কোম্পানি (এমএফএস) নগদ–এ বিদেশি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর এমপি মীর আহমাদ বিনকাসেম আরমান।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার।
পেশায় আইনজীবী আরমান গণমাধ্যমকে বলেন, বিনিয়োগ করবে বিদেশিরা। তারাই মূলত সব ঠিকঠাক করবে। আমি এখন তাদের লোকাল এজেন্ট (স্থানীয় প্রতিনিধি) হিসেবে যোগাযোগ করছি, তারা এলে তখন মূল আলোচনা শুরু হবে। সব আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। গভর্নরের সঙ্গে মিটিংযের পর কিছুটা জানতে পারব। তবে কোন দেশের বিনিয়োগকারীরা নগদে বিনিয়োগ করতে আগ্রাহী বা কাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন-সেসব স্পষ্ট করেননি তিনি।
গত বছরের ২৫ অগাস্ট অন্তবর্তী সরকারের সময়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছিলেন, নগদকে ডাক অধিদপ্তরের হাত থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তখন বিনিয়োগকারী খুঁজতে এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তও জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, নগদের মালিকানা আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে দেওয়া হবে। এজন্য নতুন বিনিয়োকারী খোঁজা হচ্ছে। কারণ নগদ চালানোর মতো সক্ষমতা পোস্ট অফিসের নেই।
মোবাইলে আর্থিক সেবার কোম্পানি হিসেবে ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা করে নগদ। পরে এই এমএফএস কোম্পানিকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ কোম্পানিকে নিয়ম ভেঙে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২১ অগাস্ট নগদের আগের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে উচ্চ আদালত পরে তা অবৈধ ঘোষণা করে। তখন নগদের দায়িত্ব নেয় ডাক অধিদপ্তর।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে নগদের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ২১ থেকে ২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক নগদের কার্যক্রম পরিদর্শন করে। তাতে বিভিন্ন ব্যাংকের ‘ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট’ হিসাবে ইস্যু করা ই-মানির বিপরীতে রিয়েল মানির ১০১ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি পাওয়া গেছে।
‘নগদ’ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৬৪৫ কোটি টাকার ই-মানি ঘাটতিসহ আরও কিছু গুরুতর আর্থিক অনিয়মের তথ্য প্রশাসক দলের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মামলাটি দায়ের করে।
গভর্নর এর আগে অভিযোগ করে বলেছিলেন, এ প্রতিষ্ঠানের আগের মালিকানায় যারা ছিলেন, তারা নানা রকমের অনিয়ম করেছে। এজন্য অনেক জায়গায় কারেকশন করতে হয়েছে।
কোনো প্রযুক্তি কোম্পানিকে নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আনার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, এখন এমন একটি প্রতিষ্ঠান দরকার, যেমন বিকাশের মত, যারা ধাপে ধাপে, শেয়ার ধরে ধরে নগদে বিনিয়োগ করতে পারবেন। আশা করছি, নগদকে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে।
এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি গভর্নরকে চিঠি দেন ব্যারিস্টার আরমান। সেখানে নগদে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে জানিয়ে বলা হয়, বিস্তারিত জানতে নগদের উপর পরিচালিত ফরেনসিক অডিটের প্রতিবেদন দিতে হবে।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে উদ্ধৃত করে সোমবার বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নগদে বিনিয়োগে আগ্রহী কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগকারী’ থাকলেই কেবল মীর আহমাদ বিনকাসেম আরমানের ল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আরমানের বিনিয়োগ প্রস্তাব সংক্রান্ত চিঠি ‘আনুষ্ঠানিকভাবে পাননি’ জানিয়ে গভর্নর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই চিঠির যে কপি ভাইরাল হয়েছে, সেখানে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ কোনো বিনিয়োগকারীর নাম নেই। কারা বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্ট খাতে তাদের কী অভিজ্ঞতা রয়েছে—আইনি প্রতিষ্ঠানটিকে তা স্পষ্ট করতে হবে।
গভর্নর এও বলেন, যদি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে চান, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীর নাম গ্রহণযোগ্য হবে না।
সূত্র: বিডি নিউজ