বান্দরবান শহরের বন্যা পরিস্থিতি আরও উন্নতি

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ

বান্দরবান শহরের বন্যা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হয়েছে। দুই দিন ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় শহরের অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা শুরু করেছেন।

দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পানি নেমে যাওয়ার পর কাদাভরা ঘর এবং বাড়িজুড়ে ময়লা-আবর্জনা নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানি কমে যাওয়ায় আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, কাশেমপাড়া, ইসলামপুর, হাফেজঘোনা, ক্যচিংঘাটা ও বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করেছেন। যেসব এলাকায় আগে বুকসমান পানি ছিল সেসব জায়গায় এখন পানি নেই বললেই চলে।

অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও সামান্য জলাবদ্ধতা থাকলেও হেঁটে পার হওয়া যাচ্ছে। ঘরের পাশাপাশি সবখানে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজও চলছে। অনেকেই ঘরে ফিরে কাদামাটি সরিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছেন। জীবিকার তাগিদে মানুষও ধীরে ধীরে কাজে ফিরতে শুরু করেছেন।

আর্মিপাড়ার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ভোর ৩টার দিকে পানি কমতে শুরু করে। এখন পানি নেই বললেই চলে। কিন্তু ঘরের ভিতর প্রচুর কাদা। সকাল থেকে পরিষ্কার করে যাচ্ছি। এভাবে সারাদিন সময় লাগবে।

কাসেমপাড়ার ব্যবসায়ী কালাম হওলাদার বলেন, পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দি ছিলাম। পাশের একটা বাসার চারতলায় আশ্রয় নিয়েছি। হঠাৎ করে পানি উঠায় দোকানের কোনো জিনিস বের করতে পারিনি। পানি নামার পর দোকান পরিষ্কার করছি সারারাত ধরে। সবকিছু স্বাভাবিক হতে আরও দুই-তিন দিন যাবে।

উজানিপাড়ার বাসিন্দা উসাংমা মারমা বলেন,শনিবার থেকে বাড়ি পরিষ্কার করছি। তারপরও শেষ হয় না। ঘরের অনেক জিনিস এখনও এলোমেলো। কিছু জিনিস রাস্তার উপরে রাখা। রোদে শুকানোর পর আজকে ঘরে ঢোকাব।

এদিকে বান্দরবান শহর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সঙ্গে দূরপাল্লার বাস চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। সোমবার দুপুর ২টার পর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে পূরবী-পূর্বানী ও সাঙ্গু ট্রাভেলের বাস ছেড়ে যাচ্ছে।

তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে সরাসরি যান চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ধসের কারণে রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচির সঙ্গে জেলা শহরে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জিপ গাড়ি ও মোটরসাইলে করে ভেঙে ভেঙে যাতায়াত করছেন।

থানচি থেকে আসা থানচি কলেজের অধ্যক্ষ ডমিনিক ত্রিপুরা বলেন, জরুরি কাজের প্রয়োজনে মোটরসাইকেলে করে রোববার বিকালে থানচি থেকে শহরে আসছি। থানচি পৌঁছার আগে দিন্তে পাড়া এবং নাইন্দারি পাড়া এলাকায় পাহাড় ধস পেয়েছি। স্থানীয় কয়েকজনকে ৩০০ টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল পার করিয়েছি। পাহাড়ধসে পড়া এই দুইটা জায়গায় মাটি সরিয়ে ফেললে বাস চলাচল করতে পারবে।

রুমা-থানচি সড়ক বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, রুমা সড়কে যেসব জায়গায় পাহাড়ধসে মাটি পড়ে আছে সেখানে সেনাবাহিনী কাজ করছে। একদিকে গাড়ি চলাচলের জন্য কাজ করা হচ্ছে, আরেক দিকে সেখানে বৃষ্টিও হচ্ছে। কখন চালু করা যায় ঠিক নাই। থানচির ব্যাপারে লাইনম্যান থেকে ক্লিয়ারেন্স পেলে মঙ্গলবার থেকে বাস চালু করা যাবে বলে আশা করা যায়।

ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের বাস কাউন্টারে ফোন করা হলে তারা বলেন, রোববার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস সকালে বান্দরবানে ঠিকভাবে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সকালেও বাস ছাড়া হবে। তবে এসি বাস সকালের ট্রিপটা বন্ধ রয়েছে। এসি বাস শুধুমাত্র রাতেই ছাড়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও বান্দরবান পৌর প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অনেক মানুষ এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আমরা ওয়ার্ড ভিত্তিক তালিকা করব। আবার অনেকেই ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। এখনও যেহেতু বেশিরভাগ বাড়িঘর পরিষ্কার করছে তারা তো রান্না করতে পারবে না। যার কারণে দুর্গত লোকজনদের দুপুরে পাশাপাশি রাতের খাবারও দেওয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh