নেতানিয়াহুর হোটেলে ঢুকে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারের দাবি

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ


ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ওয়াশিংটনে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বুধবার (২৯ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

মার্কিন প্রশাসনের প্রতি তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে নেতানিয়াহুকে আটকের দাবি জানিয়েছেন।

আল জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে ভারী বৃষ্টিপাত ও অসংখ্য নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিকে উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীদের হোয়াইট হাউসের দিকে মিছিল করে যেতে দেখা যায়।

অপরদিকে, কয়েকজন বিক্ষোভকারী জর্জটাউনের ফোর সিজনস হোটেলের লবিতে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে নৈশভোজ করছিলেন নেতানিয়াহু।

ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা হোটেলের ভেতরের রেস্তোরাঁয় ঢোকার চেষ্টা করছেন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা জোর করে তাদের সরিয়ে দেন।

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, বিবি, বিবি, তুমি লুকাতে পারবে না… তুমি গণহত্যা চালাচ্ছো।

২০২৪ সালে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে তৎকালীন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।

এর আগে নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি মন্তব্য করেন, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে আছে।

তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে এই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ‘যুদ্ধাপরাধী ও গণহত্যাকারী’ নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবি করেন।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে এসে পৌঁছানোর পর প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নেন নেতানিয়াহু। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিটের বৈঠক করেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষ করেছেন এবং দুটি বৈঠকই ছিল ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’।

এরপর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একই ধরনের মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দুই নেতার মধ্যে ‘চমৎকার রসায়ন’ স্পষ্ট ছিল।

ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, আলোচনায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু আবারও একমত হন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh