এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফং ঝাং

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ

ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর হয়েছেন ছিংফং ঝাং। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি ঢাকায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে এডিবি ঢাকা অফিসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ছিংফং ঝাং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করবেন, অংশীজনদের সঙ্গে কৌশলগত নীতি সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশের জন্য এডিবির পরবর্তী উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দেবেন।

ছিংফং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অভিযোজন ক্ষমতা জোরদার করা, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে এডিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আরো উন্নত অর্থায়ন পদ্ধতি, জ্ঞানভিত্তিক সমাধান এবং সফল বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা এ অগ্রযাত্রায় সহায়তা অব্যাহত রাখব।

টেকসই উন্নয়ন ক্ষেত্রে ছিংফং ঝাংয়ের ৩০ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে; যার মধ্যে দুই দশকেরও বেশি সময় তিনি এডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি কৃষি, খাদ্যব্যবস্থা, পানি সম্পদ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে রূপান্তরমূলক কর্মসূচি ও কৌশলগত উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ছিংফং ঝাং সরকার, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বর্তমান দায়িত্বের আগে তিনি এডিবির অ্যাগ্রিকালচার, ফুড, নেচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর অফিসের সিনিয়র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই পদে তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এডিবির কৌশলগত কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

চীনের নাগরিক ছিংফং ঝাং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ প্রকৌশলে ডক্টরেট, সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং হাইড্রোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে বিশেষায়িত পেশাগত শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্য হয়। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে এডিবির চলমান সরকারি ও বেসরকারি খাতের অনুদান ও প্রকল্প-অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা এডিবির অন্যতম বৃহৎ দেশভিত্তিক কর্মসূচি।

বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তার জন্য এডিবি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করেছে। আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশে টেকসই প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা জোরদার করা, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে এডিবি বছরে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা অনুমোদনের পরিকল্পনা করছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দুর্যোগ-সহনশীল প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শীর্ষস্থানীয় বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক হিসেবে কাজ করছে এডিবি। সদস্য দেশ ও সহযোগীদের সাথে মিলে জটিল সব সমস্যার সমাধানে কাজ করে ব্যাংকটি।

জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পৃথিবীকে সুরক্ষিত রাখতে সংস্থাটি উদ্ভাবনী আর্থিক পদ্ধতি ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে কাজে লাগায়।

১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবির সদস্য সংখ্যা ৬৯, যার মধ্যে ৫০টি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh