৯৪৩ কোটি টাকায় এক কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) বিকল হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যে এবার উচ্চমূল্যে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি আমদানি করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি ভাইটল এশিয়া এই এলএনজি সরবরাহ করবে।

আন্তর্জাতিক দর আহ্বান প্রক্রিয়ায় এই এলএনজি কিনতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৯৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের মধ্যে গেল কয়েক মাসে এলএনজি কেনার গড় ব্যয়ের চেয়ে এই দর ঢের বেশি।

গেল মার্চ থেকে এলএনজির দাম বাড়তে বাড়তে প্রতি কার্গো ৮০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে জুন মাসের শেষ সপ্তাহে এলএনজি আমদানির জন্য কার্গো প্রতি গড় খরচ ৭০০ কোটি টাকার নিচে নামার তথ্য দেয় সরকার।

কিন্তু এর এক সপ্তাহের মাথায় চলতি মাসের শুরুতে আবার গড় খরচা ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার তথ্য দেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এবার তা বেড়ে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকায় পৌঁছে গেল।

এদিকে গেল ২১ জুলাই মহেশখালীর এফএসআরইউতে আগুনের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। তখন থেকে টার্মিনালটি বন্ধ রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।

আগুনে টার্মিনালটির বিদ্যুৎ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্য বহনকারী তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশি প্রকৌশলীদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা এটি মেরামতে কাজ করছেন বলে এর আগে তথ্য দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সমুদ্রপথে আনা এলএনজি গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হয় ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে। পরে সেটি আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানো হয় জাতীয় গ্রিডে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে।

সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আরো দুই-এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সংকট কিছুটা কাটতে শুরু করবে। যদি তাদের (প্রকৌশলীদের) পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোয়, তাহলে প্রথম ধাপে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

‘এরপরের সপ্তাহে শতভাগ সক্ষমতা ফিরে আসবে বলে তারা আশা করছে।’

এলএনজি টার্মিনাল বিকল হয়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি।

সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য দিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সোমবার আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় সেই চিঠি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। চিঠিতে বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

‘ফোনালাপে আনোয়ার ইব্রাহিম তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, তা দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh