সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে শাপলা চত্বরে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় কারাগারে পাঠানোর বিষয়টিকে ‘অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছেন তার ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।
তিনি বলেছেন, আমি নিজেই বুঝতে পারলাম না উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ! শাপলা চত্বরের গণহত্যার একজন… কী বলব… পরিকল্পনাকারী? তিনি কিচেন ক্যাবিনেটেও ছিলেন না। তিনি তখন পাটমন্ত্রী ছিলেন। পাট নিয়ে হত্যা চলে না।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) লতিফ সিদ্দিকীকে হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন না সাবেক এমপি কাদের সিদ্দিকী।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার হ্যান্ডকাফ নিয়ে কোনো ব্যাপার নাই। এটা সরকার বুঝবে। আমাদের হাতে হ্যান্ডকাফ বহুবার পড়েছে। হ্যান্ডকাফকে আমরা খুব একটা খারাপ কিছু মনে করি না। বিবাহের সময় মেয়েদের হাতে যেমন চুড়ি দেওয়া হয়, আমরা ওরকমই মনে করি।
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১৩ বছর আগে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পরে লতিফ সিদ্দিকীকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ হাজির করা হলে আদালত তাকে শাপলা চত্বরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
আদালতের আদেশ শেষে ট্রাইব্যুনাল থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে হাতকড়া পরিয়ে বের করা হয়। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে।
আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, নিষ্কলুষ মানুষটিকে অন্যায়ভাবে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে আসামি করা হয়েছে, এর শুধু প্রতিবাদ জানাতে এসেছি।
একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, কোর্টের ভেতরে আমরা দেখলাম যে, পুলিশ যারা এখানে দায়িত্বে আছেন তাদের সাথে আপনার ভাইয়ের বাকবিতণ্ডা হচ্ছিল এবং উনি কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণও করছিলেন। কী হয়েছিল ঘটনাটা একটু বলবেন?
কাদের সিদ্দিকী তখন বলেন, আসলে প্রত্যেক অভিযুক্ত, তিনি কথা বলতে পারেন। তাকে যেহেতু কোর্টে এনেছে, তার কথা বলার অধিকার আছে। তিনি সেই কথাই বলতে চেয়েছিলেন।
গতরাতে তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি তাদের যে সুন্দর ব্যবহার দেখছি, এখানে তার বিপরীত একেবারে অসুন্দর ব্যবহার। আমার গায়েও ধাক্কা লেগেছে।
তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী, ৮৭ বছর বয়স যার, এই বাংলাদেশের জন্মের বেদনার সাথে তিনি জড়িত। ঠিক আছে, আমি মুক্তিযুদ্ধে একটা বিরাট সুনাম অর্জন করেছিলাম। কিন্তু তারও সূচনা করেছিলেন এই লতিফ সিদ্দিকী। লতিফ সিদ্দিকী না হলে আমি একজন রিকশাচালক হতাম, অথবা গরুর রাখাল হতাম। আমি মনে করি সম্মানী ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়া উচিত।
ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে লতিফ সিদ্দিকী কেন নিজের ফাঁসি চাইছিলেন, সে বিষয়ে তার ভাইয়ের কাছে জানতে চান একজন সাংবাদিক।
জবাবে তিনি বলেন, আমি এ কথাটা স্পষ্ট করেই বলব। মানুষ বাঁচে কদিন? উনার ৮৭ হয়ে গেছে, আমার ৮০ হয়ে গেছে। এখন যদি উনি কোনো অপরাধের দায়ে—যে অপরাধটা তিনি করেন নাই, তার ফাঁসি হয়, আমরা সাদরে গ্রহণ করব। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাকে তখন মুক্তি দেবেন, আল্লাহ নিজেই বলেছেন।
আরেক সাংবাদিক একই বিষয়ে প্রশ্ন করলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, বিনা অপরাধে যদি তার ফাঁসি হয়, তাহলে তো দুনিয়ায় যে ভুলত্রুটি করেছেন সেগুলো থেকে তিনি মাফ পাবেন। আমরাও সেটা চাই।
২০১৩ সালে শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সরাতে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে লতিফ সিদ্দিকীর কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না দাবি করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনাকে মুক্তকণ্ঠে বলছি, এরকম ক্যাবিনেট বা কিচেন ক্যাবিনেটে লতিফ সিদ্দিকী ছিলেন না।
সে সময় লতিফ সিদ্দিকী কিছু ঘটনায় আওয়ামী লীগের কাছে ‘বিতর্কিত ছিলেন’ মন্তব্য করে তার ছোটভাই বলেন, উনি যেহেতু জয়কে (শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়) বলেছিলেন… কী যেন কথাটা… কিন্তু উনি ওইভাবে বলেছিলেন— হ্যাঁ, জয় দেশের মানুষ নয়, রাস্তার মানুষ নয়। উনি বলতে চেয়েছিলেন যে জয় হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি, তাই ফ্যালনার মানুষ না। এবং সেইটাকেই ‘জয় কারা’ এই কথাটা বলে তার বিরোধী পক্ষ শেখ হাসিনার কান ভারী করতে পেরেছিলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন,আমি বলব যে, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি যে শেখ হাসিনার কান তখন ভারী ছিল। উনি (লতিফ সিদ্দিকী) আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তার মানে আপনার ভাই একেবারেই নির্দোষ বলতে চাচ্ছেন?
কাদের সিদ্দিকী তখন বলেন, এ ব্যাপারে একেবারেই নির্দোষ।