ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টায় ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ

ভূমধ্যসাগরে ভাসমান একটি রাবারের নৌকা থেকে ২৯ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে মিসরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গতকাল রোববার মিসরের কায়রোর বাংলাদেশ দূতাবাস এই তথ্য জানায়।

দূতাবাসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মানব পাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবরুক থেকে রওনা হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল নৌকাটি। যাত্রাকালে নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয়। পরে ২৯ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীসহ নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে এসে পৌঁছায়। তখন তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় ছিলেন। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য মিসরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি জানার পর দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন স্থানীয় পুলিশসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, তাদের তত্ত্বাবধানে ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের একজন কর্মীর সহায়তায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি আবদুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে জাকির হোসেনের কথা হয়।

আবদুল করিমের ভাষ্যের বরাতে দূতাবাস জানায়, ৩ আগস্ট ৩৮ জন বাংলাদেশি ও ৪ জন সুদানিসহ মোট ৪২ জন লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। নৌকাটি একটি স্পিডবোট ইঞ্জিন দিয়ে চলছিল। নৌকায় কোনো নেভিগেশনব্যবস্থা ছিল না। যাত্রার আগে তাঁদের জানানো হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা লাগবে। একপর্যায়ে জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয়। প্রায় ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিল নৌকাটি। এভাবে ভাসতে ভাসতে ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে এসে পৌঁছায়।

দূতাবাস বলছে, আবদুল করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ, খাদ্য ও পানির অভাবে ৯ জন বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানিসহ মোট ১০ জন অসুস্থ হয়ে মারা যান। একপর্যায়ে মৃতদেহগুলোয় পচন ধরে। তখন মৃতদেহগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন জীবিত যাত্রীরা।

ঘটনাটি জানার পর থেকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়। দূতাবাস বলছে, মিসরে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে। প্রয়োজনীয় কনস্যুলারসহ অন্যান্য সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের প্রচলিত আইন অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh