সর্বজনীন পেনশনে বড় চমক : ৫৫ বছরেই সুবিধা ও জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলার সুযোগ

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ নতুন ও যুগান্তকারী উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। বিদ্যমান ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন সুবিধা চালু, জরুরি আর্থিক বা শারীরিক অক্ষমতায় পাঁচ বছর পর টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ এবং পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে মোট ১১টি আলোচ্যসূচি নিয়ে আলোচনা হবে এবং পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এসব প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে যাবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান।

২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট দেশের কর্মজীবী, অনিয়মিত আয়ের মানুষ ও প্রবাসীদের কথা বিবেচনায় রেখে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস-এই চারটি স্কিমের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। চালুর পর তিন বছর পার হলেও ব্যাংক আমানতের তুলনায় কম মুনাফা এবং তাৎক্ষণিক সুবিধার অভাবে মানুষের আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই চার কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন এবং তাঁদের জমা করা আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সমতা কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক থাকলেও প্রবাসীদের সাড়াদান সবচেয়ে কম। তাই গ্রাহকদের অনাগ্রহ কাটাতে ও আস্থা ফেরাতে নিয়মে এসব বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বয়স শিথিল ও আজীবন নমিনি সুবিধার পাশাপাশি আরও কয়েকটি জনবান্ধব উদ্যোগের কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। অনেকেই সুদভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্যে থাকতে চান না বলে তাঁদের জন্য পেনশন স্কিমের একটি ‘ইসলামিক ভার্সন’ চালুর বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকার মতো মাসিক প্রিমিয়াম নিয়ে স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা প্রদান, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ও মুনাফার হার পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ রিজার্ভ বা কন্টিনজেন্সি তহবিল গঠন এবং নিবন্ধনের কাজে যুক্ত ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাবও রয়েছে কর্তৃপক্ষের আলোচ্যসূচিতে।

বর্তমানে এই স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে হলে গ্রাহকদের ‘ইউপেনশন’ ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে সহজে নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে। সেখানে সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সুবিধা বা সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা গ্রহণ না করার ঘোষণাপত্রে সম্মতি জানিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত স্কিমটি বেছে নেওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পর্ষদ সভায় প্রস্তাবিত নতুন এই আর্থিক ও কাঠামোগত সুবিধাগুলো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সূত্র: প্রথম আলো

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh