পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কমিশন চালু, তীব্র আপত্তি ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অভিন্ন সীমান্ত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে নতুন একটি যৌথ কমিশন চালু করেছে পাকিস্তান ও চীন। বুধবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই কমিশনের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ও সমুদ্রবিষয়ক বিভাগের উপমহাপরিচালক লি ইয়া এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চীন বিষয়ক মহাপরিচালক বিলাল মাহমুদ চৌধুরী এতে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এই পদক্ষেপকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

মূলত ২০১৩ সালে তৎকালীন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি খিছিয়াংয়ের ইসলামাবাদ সফরের সময় স্বাক্ষরিত ‘বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চুক্তির ৪৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় এই কমিশনটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে দুই দেশ এখন থেকে সীমান্ত রক্ষণাবেক্ষণ, যৌথ জরিপ, সীমানা পিলার ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসীমান্ত স্থাপনা তদারকির মতো বিষয়গুলো পরিচালনা করবে।

পাশাপাশি নতুন এই উদ্যোগের ফলে গুরুত্বপূর্ণ খুনজেরাব ক্রসিংসহ বিভিন্ন সীমান্তপথে বাণিজ্য ও জনগণের যোগাযোগ আরও সুসংহত করার সুযোগ তৈরি হবে। এসব কার্যক্রম সরাসরি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) কার্যকারিতা ও বাণিজ্য প্রবাহের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।

উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও চেন ইয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে গঠিত সীমানা নির্ধারণী ‘জয়েন্ট বাউন্ডারি ডিমার্কেশন কমিশন’-এর চেয়ে নতুন এই কমিশন সম্পূর্ণ আলাদা। আগের কমিশনের কাজ ছিল কেবল সীমানা জরিপ করে চিহ্নিত করা, আর বর্তমান কমিশন দৈনন্দিন সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বাস্তবিক বিষয়গুলো দেখভাল করবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নতুন কমিশন প্রয়োজনে সীমানা পিলারের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করতে পারলেও মূল সীমান্তরেখার কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না।

এদিকে, পাকিস্তান ও চীনের এই নতুন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে একে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে বৈধ কোনো সীমান্ত নেই এবং ১৯৬৩ সালের চুক্তিভুক্ত ওই ভূখণ্ডটি মূলত ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তা সত্ত্বেও, পাকিস্তান ও বেইজিং প্রশাসন মনে করছে যে, এই নতুন কমিশন তাদের সীমান্ত সম্পর্ক পরিচালনা এবং বাস্তবিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রদান করবে, যা বিদ্যমান ভূখণ্ডগত অবস্থানের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh