সব
স্বদেশ বিদেশ ডট কম

প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বৃদ্ধি, নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা এবং সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চলতি ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন চলমান ও ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পসমূহের এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক সময়ক্ষেপণ বা বিলম্ব (টাইম ওভাররান) কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। তিনি প্রতিটি প্রকল্পে সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করার কঠোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলোর ডিপিপি (ডিফাইনড প্রজেক্ট প্রোফাইল / ডিটেইলড প্রজেক্ট প্রপোজাল) দ্রুত প্রণয়নের তাগিদ দেন।
কারাগার সংক্রান্ত প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা ও যাতায়াত সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে এ ধরনের কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হওয়া যুক্তিসংগত। তবে সাধারণ অবকাঠামোগত প্রকল্পে কোনো ধরনের বিলম্বের সুযোগ নেই। তিনি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সকল সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্ট সুবিধা জোরদার, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো সুনির্দিষ্ট সময়সূচির মধ্যে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
দেশের গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত ‘মডেল থানা’য় রূপান্তরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড (প্রোটোটাইপ ডিজাইন) অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। যেসব এলাকায় জমির সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একটি একক সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবহন ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সরকারি প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত এবং কাজের দ্বৈততা এড়াতে পৃথক প্রজেক্টের পরিবর্তে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতির (‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’) আহ্বান জানান। একই সাথে সরকারের মেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও পুনরায় পরিসর নির্ধারণের (‘রিস্কোপিং’) ওপর জোর দেন।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২,৬৬২.০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে (যার মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২,৫৫২.০৮ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ১০৯.৯৭ কোটি টাকা)।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।