বিরোধী দলগুলো আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে: রিজভী

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ

বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলো আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব) রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধীদলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও তাণ্ডবের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, গুপ্ত বলে পরিচিত একটি সংগঠনের ছাত্র সংগঠন ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লংমার্চ করার জন্য বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দলটির নীতি দুটি—একদিকে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিরোধী বক্তব্য দেওয়া, অন্যদিকে নিজেদের কর্মীদের উসকে দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো। দলটি দেশের সব রাজনৈতিক বিকাশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতাসংগ্রাম—সব স্বাধিকার আন্দোলনে জামায়াত বাধা দিয়েছিল এবং ধর্মের নাম ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করেছে। এ কারণেই তারা কখনো জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, একটি সুন্দর সরকারি কার্যক্রমকে অপপ্রচারের ঘেরাটোপ দিয়ে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এখন আর ব্যাংক থেকে টাকা পাচার বা লুটপাট হচ্ছে না; বরং রেমিট্যান্স বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক মুদ্রার রিজার্ভ আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দেশের আর্থিক খাত আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় সংকট ও জ্বালানি সংকটের সময়ে ৪৫০টি গাড়ি বহর নিয়ে লংমার্চ করার কি প্রয়োজন ছিল? যমুনা সেতুর টোলের হিসাব তুলে ধরে তিনি অপপ্রচার বন্ধের পাশাপাশি অহেতুক সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার (বা সরকারপ্রধানের) ওপর দায় না চাপিয়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের আহ্বান জানান।

রিজভী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অসভ্যতা, কাদা ছোড়াছুড়ি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আন্দোলন করেছিলাম। কিন্তু এখন আবার তার পুনরাবৃত্তি দেখছি। এর জন্যই কি হাজারো শহীদের আত্মদান?”

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি ব্যারিস্টার নাসিম খানের সভাপতিত্বে এবং জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, গণদলের চেয়ারম্যান এ টি এম গোলাম মওলা, এনপিপির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এনডিপির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ-আল-হারুন (সোহেল), ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, সাম্যবাদী দলের সভাপতি সাইদ আহমেদ, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারেক, এনডিপির মহাসচিব জামিল আহমেদ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব সাইফুল ইসলাম, বিএমএলের মহাসচিব রেজওয়ান মর্তুজা ও গণদলের মহাসচিব আবু সৈয়দ।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh