বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ

বরিশাল নগরীর ভাড়া বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকেয়া আজিম সড়কের ভাড়া বাসার শয়ন কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।

নিহত আমেনা খানম (৬৫) হিজলা উপজেলার খুন্না বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. মোশারফ আলীর স্ত্রী। তিনি একই উপজেলার দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তার এক ছেলে ঢাকায় ও অপর ছেলে হিজলা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। তিনি রোকেয়া আজিম খালপাড় সড়কে প্রবাসী মো. শাহবুদ্দিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করতেন।

উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, আমেনা খানমের বড় ছেলে ঢাকায় ব্যাংকে চাকুরি করেন। উনি জানিয়েছেন, তার মায়ের ফোন বন্ধ, কোনোভাবেই মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। যার কারণে উনি ঢাকা থেকে চলে আসেন। পরে থানায় এসে জানানোর পর পুলিশ তার সাথে মায়ের ভাড়া বাসায় যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে ওই নারীর কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। পরে ছেলের কাছে থাকা চাবি দিয়ে সেই তালা খোলে পুলিশ। ঘরে প্রবেশ করে দেখা যায় খাটের ওপর ওই নারীর মরদেহ পড়ে আছে। কাপড়-চোপড় দিয়ে মরদেহের হাত-পা বাঁধা এবং ঘরের মধ্যে বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, পরিকল্পিতভাবে যে কেউ এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে তারা তালা দিয়ে বেরিয়ে গেছে। যেহেতু দুগর্ন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে দুই একদিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে ধারণা করছি। আমাদের ফরেনসিক টিম, ক্রাইম টিম, সিআইডি টিম কাজ করেছে। মূল রহস্য উদঘাটন এবং পাশাপাশি যে বা যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক অতিদ্রুত তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

চুরি কিংবা ডাকাতির ঘটনা ঘটছে কিনা প্রশ্নের জবাবে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, আমেনা খানমের সন্তান জানিয়েছে মায়ের গলায় স্বর্ণের চেইন ছিল। মুল্যবান কোনো মালামাল খোয়া গেছে কিনা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেউ আটক নেই। তবে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

মহানগরীর কাউনিয়া থানার পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন বলেন, সর্বশেষ গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে সর্বশেষ মায়ের সঙ্গে তার ছেলের কথা হয়েছিল। বুধবার দিনভর ফোন বন্ধ ছিল; পরে রাতে সন্তান এসে পুলিশ নিয়ে বাসায় গিয়ে হাত-পা বাঁধা মায়ের মরদেহ পেয়েছে।

তবে ছেলে সরাসরি মায়ের বাসায় না গিয়ে আগে থানায় কেনো গিয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন বলেন, একই প্রশ্ন আমাদেরও। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত বলতে পারব। দুপুরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh