মন্ত্রীর পরিদর্শনেও বদলায়নি হবিগঞ্জ হাসপাতাল, অজুহাত ‘জনবল সংকট’

স্বদেশ বিদেশ ডট কম

  • প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের আকস্মিক পরিদর্শনের পর কয়েক দিন পরিপাটি থাকলেও ফের পুরনো বেহাল দশায় ফিরে গেছে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, শয্যা সংকট, বাইরে থেকে ওষুধ ও পরীক্ষা করানো এবং নার্স-চিকিৎসকদের অবহেলায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। তবে এসব অব্যবস্থাপনার পেছনে চিকিৎসক ও জনবল সংকটকেই দুষছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে ১০ টাকা এবং বহির্বিভাগে ৫ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা মিলছে না। গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব ওষুধই রোগীদের নিজ খরচে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে ও ইসিজি ছাড়া অন্যান্য সব পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়। আবার যেগুলো হাসপাতালে করার কথা, সেগুলোর যন্ত্রপাতিও প্রায় সময় বিকল থাকে।

শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় এমন দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে যে চলাফেরার সময় নাক চেপে ধরতে হয়। বাথরুমগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

শায়েস্তাগঞ্জ থেকে আসা এক রোগী জানান, ভর্তি হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, সব বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। প্রয়োজনে ডাকলেও নার্সরা সাড়া দেন না।

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা রিনা বেগম জানান, আট দিন ধরে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত সন্তানকে ভর্তি রাখলেও কোনো উন্নতি না হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়েছেন।

বানিয়াচংয়ের সালমা বেগম জানান, প্রতিদিন সকালে হাসপাতাল থেকে শুধু একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়, বাকি ওষুধ এবং সব পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এম সজলু মিয়া বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পর কয়েক দিন হাসপাতালটি পরিপাটি ছিল এবং সেবার মানও কিছুটা বেড়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থা। নোংরা পরিবেশ ও স্টাফদের খারাপ আচরণের কারণে রোগীরা এখানে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন।”

এর আগে গত ২৯ আগস্ট দুপুরে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তখন তিনি হাসপাতালের রান্নাঘর থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও মেডিসিন স্টোর ঘুরে দেখেন। পার্শ্ববর্তী জেলার তুলনায় এখানকার পরিবেশ নোংরা দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সে সময় ফার্মেসিতে রিগান আহমেদ নামের এক কর্মীকে অনুপস্থিত পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বদলির আদেশ দেন মন্ত্রী। এছাড়া জনবল ও শয্যা বাড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই তৎপরতার প্রভাব কয়েক দিনের বেশি টেকেনি।

হাসপাতালের এই বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনসুর আহমেদ ইকবাল বলেন, “জেলাবাসীর চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। কিন্তু এখানকার নোংরা পরিবেশ ও সেবার মান দেখে হতাশ হতে হয়। দ্রুত কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক আমিনুল হক সরকার বলেন, “আমরা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে চিকিৎসক ও জনবল সংকট থাকায় কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে আশা করছি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh