কন্যাশিশুর অধিকার ও আগামীর বাংলাদেশ: বৈষম্যের বেড়াজাল ভেঙে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

ওমর ফারুক,

  • প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ

একটি কন্যাশিশু যখন জন্ম নেয়, তখন তার চোখে ভবিষ্যতের কোনো সীমারেখা আঁকা থাকে না। সে বড় হয়ে চিকিৎসক হতে পারে, শিক্ষক হতে পারে, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা কিংবা রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়া কোনো মানুষ হতে পারে। তার স্বপ্নের আকাশে কোনো লিঙ্গভিত্তিক দেয়াল থাকার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের সমাজে অনেক কন্যাশিশুর জীবনের সম্ভাবনা জন্মের পর থেকেই নানা সামাজিক বিধিনিষেধ, বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। কোনো মেয়েশিশু স্কুলে যেতে চায়, কিন্তু পরিবার তার বিয়ের কথা ভাবতে শুরু করে। কেউ খেলাধুলা করতে চায়, কিন্তু তাকে শুনতে হয় ‘মেয়েদের এত বাইরে ঘোরাঘুরি মানায় না’। কেউ নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়তে চায়, কিন্তু পারিবারিক সিদ্ধান্তে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় অন্যের ইচ্ছায়। আবার কোনো কিশোরী রাস্তায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়ে ধীরে ধীরে নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।

এই বাস্তবতা শুধু একটি শিশুর ব্যক্তিগত বেদনা নয়; এটি সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির পথে একটি বিশাল প্রাচীর। প্রতি বছর ১১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। জাতিসংঘ ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে দিবসটি ঘোষণা করে এবং ২০১২ সাল থেকে এটি পালিত হয়ে আসছে। এর উদ্দেশ্য কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের সামনে থাকা বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা। ২০২৬ সালের এই দিবসের প্রতিপাদ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ অ্যান্ড ইনভেস্ট ইন গার্লস রাইটস’ বা ‘বাল্যবিয়ে বন্ধ করুন এবং মেয়েদের অধিকার সুরক্ষায় বিনিয়োগ করুন’। তবে বছরে একটি দিন কন্যাশিশুর জন্য উৎসর্গ করলেই তাদের জীবনের বাস্তবতা বদলে যাবে না। দিবসটির প্রকৃত তাৎপর্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন এর বার্তা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হবে।

অগ্রগতির পথে বাংলাদেশ এবং বর্তমান সরকারের রূপকল্প: বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে নারীশিক্ষা, শিশুমৃত্যু হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ বেড়েছে, নারীরা বিভিন্ন পেশায় নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন এবং সমাজের নানা ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান বিএনপি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন কন্যাশিশুদের অধিকার, শিক্ষা ও সুরক্ষায় অভাবনীয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিগত ২৫ বছরে শিক্ষা, আইন সংস্কার ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগের ফলে দেশে আনুমানিক ছয় কোটি ৮০ লাখ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এই বিশাল অর্জনের নেপথ্যে বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বিশ্বাস করে, একটি কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন শুধু অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার ভবিষ্যৎ গড়ার প্রকৃত সুযোগ তৈরি করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে কন্যাশিশুদের জন্য ব্যাপক হারে বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, অধিক হারে নারী শিক্ষক নিয়োগ, এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে হেল্পলাইন ও আইনি সহায়তা সম্প্রসারণের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো বর্তমান সরকারের শিক্ষাবান্ধব ও নারীবান্ধব নীতিরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

বাল্যবিবাহ: সামাজিক ব্যাধি ও তা নিরসনে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ: অগ্রগতির উজ্জ্বল চিত্রগুলোর আড়ালে এখনো কিছু উদ্বেগজনক বাস্তবতা রয়ে গেছে। দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, সহিংসতা এবং পুষ্টির ঘাটতি এখনো বহু কন্যাশিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের ব্যাপকতা এর একটি বড় উদাহরণ। ইউনিসেফের বাংলাদেশের শিশু পরিস্থিতি-সংক্রান্ত উপাত্তে, ২০২৫ সালের বহুমাত্রিক সূচক জরিপের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়েছিল। একই উপাত্তে দেখা যায়, এই বয়সী নারীদের ১৩ দশমিক ৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছিল ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই।

এই পরিসংখ্যান কেবল বিয়ের বয়সের হিসাব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মেয়েদের শিক্ষাজীবন, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, আর্থিক স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার। একটি কিশোরী যখন নিজের শৈশব ও কৈশোরের স্বাভাবিক বিকাশের সময়েই সংসারের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়, তখন তার শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং ব্যক্তিগত সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ চিরতরে সংকুচিত হয়ে পড়ে। অল্প বয়সে গর্ভধারণের কারণে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে। ফলে বাল্যবিবাহের ক্ষতি শুধু একজন মেয়ের জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরিবার, পরবর্তী প্রজন্ম এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে।

বাল্যবিবাহের পেছনে শুধু দারিদ্র্যকে দায়ী করলে চলবে না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, মেয়েদের প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কন্যাশিশুর মতামতকে অবজ্ঞা করার প্রবণতা। অনেক অভিভাবক মনে করেন, মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দিলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। কিন্তু একটি মেয়ের নিরাপত্তার সমাধান তার শৈশব কেড়ে নেওয়া হতে পারে না। এই সংকট অনুধাবন করে বর্তমান সরকার ২০১৭ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের কার্যকর প্রয়োগে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জন্মনিবন্ধনের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ডেটাবেজ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বাল্যবিবাহের হার ধীরে ধীরে কমে আসছে।

শিক্ষা: কন্যাশিশুর মুক্তির সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার: শিক্ষা একটি শিশুকে শুধু বইয়ের জ্ঞান দেয় না; এটি তাকে নিজের অধিকার চিনতে, সিদ্ধান্ত নিতে, যুক্তি দিয়ে ভাবতে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শেখায়। একটি শিক্ষিত মেয়ে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে, অর্থনৈতিক সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।

ইউনিসেফের ২০২৫ সালের বাংলাদেশবিষয়ক উপাত্ত অনুযায়ী, নিম্নমাধ্যমিক বয়সী শিশুদের সমন্বিত বিদ্যালয়-উপস্থিতির হার ৬০ দশমিক ১ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক বয়সী তরুণদের ক্ষেত্রে তা ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষায় অংশগ্রহণ ধরে রাখার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের জন্য শিক্ষা সহায়তা, বিদ্যালয়ে নিরাপদ পরিবেশ, প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধা এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার কার্যকর কর্মসূচি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে বর্তমান বিএনপি সরকার। কক্সবাজারের উখিয়ার ১৬ বছর বয়সী তাহমিনার গল্পটি এখানে প্রাসঙ্গিক। পরিবারের আর্থিক সংকট ও বাবার অসুস্থতার কারণে দশম শ্রেণিতে পড়া তাহমিনার ভবিষ্যৎ যখন অন্ধকারের মুখে, তখন সরকারি শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি তার জীবনে আশার আলো হয়ে আসে। এমন হাজার হাজার তাহমিনার স্বপ্ন পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কন্যাশিশুর শিক্ষা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি তার অধিকার বর্তমান সরকারের নীতিমালায় এই দর্শনটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত।

নিরাপত্তা: শারীরিক, মানসিক এবং ডিজিটাল অঙ্গনে সুরক্ষা: কন্যাশিশুর অধিকার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে নিরাপত্তার প্রশ্নটি সর্বাগ্রে চলে আসে। ইউনিসেফ বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ আগের এক মাসে বাড়িতে শারীরিক শাস্তি অথবা মানসিক আগ্রাসনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। শিশুদের প্রতি এই সহিংসতা সব সময় দৃশ্যমান হয় না। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি অপমান, ভয় দেখানো, অবহেলা এবং মানসিক নিপীড়ন শিশুর আত্মবিশ্বাসে চরম আঘাত হানে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শিশুবান্ধব পদ্ধতিতে অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তির বিস্তার কন্যাশিশুর সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। কিন্তু একই সঙ্গে অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং এবং ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির মতো নতুন ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার ডিজিটাল জগতে কন্যাশিশুদের নিরাপদ রাখতে সাইবার নিরাপত্তা আইনগুলোকে যুগোপযোগী করেছে এবং সাইবার হেল্পলাইন চালু করেছে। ইন্টারনেট ব্যবহারে মেয়েদের পিছিয়ে না রেখে, তাদের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল ব্যবহারের শিক্ষা প্রদানে স্কুলগুলোতে বিশেষ পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি যেন নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার না হয়ে আত্মনির্ভরতার চাবিকাঠি হয়, সেদিকে সরকার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে।

স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও অদৃশ্য শ্রমের অবসান: একটি শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পুষ্টি ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু অনেক পরিবারে খাদ্য বণ্টন ও চিকিৎসায় ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বৈষম্য দেখা যায়। কৈশোরে প্রবেশের পর মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যেখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে।

অর্থনৈতিক বৈষম্যের শেকড়ও অনেক গভীরে। ছেলেকে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলা হলেও মেয়েকে গৃহস্থালি কাজে বেশি সময় দিতে বাধ্য করা হয়, যা তার অদৃশ্য শ্রম হিসেবে গণ্য হয়। এই বৈষম্য দূর করতে পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার নারীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে।

রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের সমন্বিত দায়িত্ব: কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না; পরিবার, সমাজ, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় নেতৃত্ব সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে যে ৭ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে তা হলো:

আইনের কঠোর প্রয়োগ: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের শতভাগ প্রয়োগ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

শিক্ষায় শতভাগ অন্তর্ভুক্তি: মেয়েদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার জন্য দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং বিদ্যালয়ে হয়রানিমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ত্বরিত ন্যায়বিচার: শিশু নির্যাতন ও যৌন হয়রানির অভিযোগ দ্রুত, নিরপেক্ষ ও শিশুবান্ধব পদ্ধতিতে তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করা।

স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ: বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও প্রতিবন্ধী মেয়েশিশুদের জন্য পুষ্টি ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

ডিজিটাল সুরক্ষা: প্রযুক্তি ব্যবহারে মেয়েদের দক্ষতা বাড়ানো এবং অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর সাইবার নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন: কতটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হলো বা কতজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ফিরল, তার ডেটাবেজ তৈরি করে নিয়মিত মূল্যায়ন করা।

নীতি প্রণয়নে অংশগ্রহণ: কন্যাশিশুদের জন্য নেওয়া যেকোনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে তাদের নিজস্ব মতামত ও অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।

পারিবারিক মানসিকতার পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি জরুরি। ‘মেয়ে বলে পারবে না’ এই সেকেলে ধারণা পরিত্যাগ করতে হবে। ছেলেশিশুকেও শেখাতে হবে যে প্রকৃত শক্তি অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করায় নয়, বরং অন্যের অধিকার ও মর্যাদাকে সম্মান করায় নিহিত।

১১ অক্টোবরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস আমাদের সেই সম্মিলিত দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। একটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন পূরণ হওয়া মানে শুধু একটি পরিবারের আনন্দ নয়; এর অর্থ একটি সমাজের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হওয়া। শিক্ষিত, সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও নিরাপদ কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের দক্ষ কর্মী, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

বর্তমান বিএনপি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমন একটি সমাজ গড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে জন্ম, লিঙ্গ বা পারিবারিক আর্থিক অবস্থা কোনো শিশুর সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করবে না। আজ যে মেয়েটি স্কুলের বেঞ্চে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে, দারিদ্র্য বা বৈষম্য যেন তার সেই যাত্রাপথ রুদ্ধ করতে না পারে, রাষ্ট্র আজ সেই গ্যারান্টি দিচ্ছে। কন্যাশিশুর জন্য সমতা নিশ্চিত করা কোনো বিশেষ অনুগ্রহ নয়; এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক দাবি। আর সেই দাবি পূরণের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস সত্যিকার অর্থে সার্থক হয়ে উঠবে এবং কন্যাশিশুর উজ্জ্বল হাসিমুখেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের এক সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ। লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh