৩ হাজার বিক্ষোভকারী মুক্ত, দীপকে-ধ্রুব রাঠিসহ চারজন এখনো আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ

ভারতের সাধারণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। শনিবার ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ অন্তত ৩ হাজার মানুষকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের সিংহভাগকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠিসহ শীর্ষ কয়েকজনের মুক্তির বিষয়টি মধ্যরাত পর্যন্ত অমীমাংসিত ছিল।

পুলিশের এই নজিরবিহীন ধরপাকড়ের কবলে পড়েন ভারতের চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শীর্ষ বামপন্থী নেতা পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার। এছাড়াও আটক হন তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সাকেত গোখলে; আপ-এর সঞ্জয় সিং, সৌরভ ভরদ্বাজ, গোপাল রাই; বাম নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, বৃন্দা কারাত এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ ও যোগেন্দ্র যাদব।

সমাবেশের পূর্বানুমতি না থাকায় দিল্লির কেন্দ্রস্থল জন্তর মন্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। আন্দোলনকারীরা কৌশল বদলে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে দিল্লি হাটের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’র (এআইএসএ) নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ এবং লাঠিপেটা করে তাদের পুলিশ ভ্যানে তোলে।

দিল্লিতে অবতরণের পরপরই বিমানবন্দর থেকেই সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে এবং দলীয় নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্যদিকে গুরুগ্রামের নিজ বাসা থেকে আটক করা হয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। দীপকের দাদির প্রয়াণ ঘটায় শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার মৌখিক আশ্বাসের কথা বলা হলেও তাঁকে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

এই দমনপীড়নের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে মোদি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। রাহুল বিরোধী দলগুলোর সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সব নেতা, তরুণ ও বিরোধীদের পারলে বন্দি করুন; আমরা তরুণ সমাজের এই লড়াইয়ের পাশে আছি।” আগের দিনই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

পাল্টা বক্তব্যে বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ দাবি করেন, সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভারত রাজপথ দিয়ে নয়, সংসদীয় নিয়মেই পরিচালিত হবে।

দিল্লির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ভারতের অন্যান্য মেট্রো শহরেও। মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে একই দাবিতে বিক্ষোভকালে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী এবং বলিউড অভিনেতা ইমরান খানসহ প্রায় ২০০ জনকে আটক করে পুলিশ। চেন্নাই ও আহমেদাবাদেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। কড়া পুলিশি প্রহরার মধ্যেই সিজেপি ঘোষণা করেছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রবিবারও জন্তর মন্তরে যাত্রা অব্যাহত রাখবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh