শত শত কোটি ডলারের সমরাস্ত্রও ঠেকাতে পারছে না হুতিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

  • প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ

প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর শত শত কোটি ডলার ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে প্যাট্রিয়ট ও থাড-এর মতো অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহ করার পরও ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব। গত বছর সামরিক খাতে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করে বিশ্বের শীর্ষ দশটি দেশের তালিকায় উঠে এলেও, সম্প্রতি রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলাসহ তেল শোধনাগার ও পাইপলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় চরম সংকটের মুখে পড়েছে দেশটি।

সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসআইপিআরআই ও অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, আকারের দিক থেকে বিশাল হওয়ায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষারেখা অত্যন্ত বিস্তৃত এবং বর্তমানে তিন দিক থেকেই দেশটি হুমকির সম্মুখীন। পূর্বে ইরান, উত্তরে ইরাকের ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া এবং দক্ষিণে ইয়েমেনের হুতিরা ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

হুতিরা রাশিয়ার কৌশল অনুকরণ করে একসঙ্গে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোনের সমন্বয় ঘটিয়ে হামলা চালাচ্ছে, যা সৌদির রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিদের ব্যবহৃত ‘হাতেম-২’ এবং ‘ফিলিস্তিন-২’-এর মতো অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো মূলত ইরানি প্রযুক্তিতে তৈরি এবং অত্যন্ত দ্রুতগামী ও নিখুঁত।

টানা সাত বছরের অবরোধ ও সংঘাতের পর হুতিরা এখন সৌদি আরবের বিমান হামলা বন্ধের পাশাপাশি কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও হুতিরা রিয়াদের দুই সপ্তাহ ও এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে লড়াইয়ের পরিধি বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এরই মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার আগে নাগরিকদের ফোনে সতর্কবার্তা দেওয়া বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দেয়, যা পরে পুনরায় চালু করা হয়।

হুতিদের এই অবিরাম হামলা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ বা অর্থনীতি বৈচিত্র্যকরণ প্রকল্পের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে; এমনকি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানগুলো রিয়াদে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কংগ্রেস থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর স্থল অভিযানের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ সশস্ত্র সদস্যের সুসংগঠিত হুতিদের পরাজিত করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। হুতিরা এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজ ঘেরাও করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরব পাকিস্তান ও মিসরসহ আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে।

তবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই কৌশলগত অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর অনিচ্ছার কারণে মার্কিন সহায়তার বিষয়টিও অনিশ্চিত। ওয়াশিংটনের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সামরিক সমাধানের চেয়ে শেষ পর্যন্ত রিয়াদকে হয়তো অপ্রিয় হলেও কূটনীতির পথেই ফিরে যেতে হবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh